ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন শিক্ষিকা তৃপ্তি চট্টোপাধ্যায় (৩৯)। তাতে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘দ্য এন্ড’। গত শুক্রবার সন্ধে সাতটা চৌত্রিশ মিনিটে এটি লিখেছিলেন তিনি। আর রবিবার ভোরে তার বাড়ি থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেলদা থানায়। তৃপ্তির স্বামী সুমিত চট্টোপাধ্যায় বেলদা-২ অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি। ওই ঘটনায় পর এ পর্যন্ত বেলদা থানায় কোনও অভিযোগ হয়নি। পুলিশ মৃতদেহ সংগ্রহ করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। খবর: আনন্দবাজার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বেলদা থানার দেউলী মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা তৃপ্তি বছরখানেক আগে বেলদা হিমাংশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। সেখানে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একটি ঝামেলার ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ তাঁকে ময়নাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত করে।
ওই দম্পতি নিঃসন্তান। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তৃপ্তি। তার স্বামী সুমিত বলেন, ‘রাতে তেমন কোনও সমস্যা হয়নি। প্রতিদিনের মতো ঘরে ফিরে শুতে যাই। ভোরে উঠে দেখি এই ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে মাথায় একটু সমস্যা ছিল। কখনও রেগে যেত, আবার কাঁদত।’
ওই শিক্ষিকরা ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে, গত ১২ এপ্রিল তিনি স্কুলে যাননি। সারাদিন ফেসবুকে ছিলেন। স্বামীর রান্না খেয়ে তারিফ করে পোস্টও করেছেন। পাশাপাশি তাঁর কানের সমস্যার কথা লিখেছে। একাধিক পোস্ট করেছেন শুক্রবার। একটি পোস্টে লেখা, ‘আমাকে শান্তি দেওয়ার কেউ নেই। তবে আমার স্বামীকে আমি ভালোবাসি।’