ময়মনসিংহ নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের গজিয়াবাড়ি মাঠ © টিডিসি
ময়মনসিংহে কাজ না করেই বিল উত্তোলন করেছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের এক ঠিকাদার। নির্বাহী প্রকৌশলী কাজ শেষ না করেই কেন বিল দিলেন এ নিয়ে প্রকল্প এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রকল্পের কাজের ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান রেজাউল করিম ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী নাজমুল হোসেন রাসেল। তিনি টাকা উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ময়মনসিংহ নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের গজিয়াবাড়ি মাঠে এই দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র দেখা যায়।
এ সময় ঠিকাদার রাসেল হোসেন বলেন, কাজ এখনো চলমান, তাই আমি বালু ভরাট শুরু করেছি। এই কাজের চেক হয়েছে কিন্তু এখনো টাকা উত্তোলন করা হয়নি। এ সময় সীমানা প্রাচীরের রংয়ের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু ভরাটের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও বালু ভরাট না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। আর সীমানা প্রাচীরে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও মাসখানেক আগে নামকাওয়াস্তে সামান্য কাজ হলেও এরপর আর কোন কাজ হয়নি।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এখনো মাঠে বালু ভরাট করা হয়নি। আর সীমানা প্রাচীর আরও উঁচু করার কথা থাকলেও নামকাওয়াস্তে পুরোনো দেয়ালের ওপর ইট বসিয়ে ঘসামাঝা করা হয়েছে। এতে দেওয়া হয়নি সিমেন্ট ও বালুর প্রলেপ।
এদিকে কাজ না করেই বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের ঘটনাটি গত বুধবার জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রেজাউল করিম ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী নাজমুল হোসেন রাসেল প্রকল্পস্থলে হাজির হয়ে ময়লার স্তূপ সরিয়ে মাঠের এক কোণে সমান করতে দেখা যায়।
মহানগর সুজনের সহসভাপতি তৌহিদুজ্জামান ছোটন এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনিয়মের ঘটনাটি শুনে আমি প্রকল্পস্থল ঘুরে দেখেছি, এতে মনে হয়েছে প্রকল্প ২টিতে ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সীমানা প্রাচীরের কাজ হয়েছে নামমাত্র। তবে বালু ভরাট হয়নি এক ছিটেও। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে এ ধরনের অনিয়ম কোনভাবেই মেনে নেওয়ার মত নয়। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সবুরও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এই মাঠটিতে কাঁদাপানি জমে থাকে। মানুষ চলাচল করতে পারে না। শুনেছি ৩ লাখ টাকার বালু ভরাট না করেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।’ এটি আশ্চর্য যখন ঘটনা।
অভিযোগ উঠেছে- ময়মনসিংহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউল হক এই দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। গত কয়েক বছর শেরপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্ব পালনকালে নিজেই ঠিকাদারি কাজ করা, ঘুষ বাণিজ্য, টেন্ডার টেম্পারিং, কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে সম্প্রতি এই প্রকৌশলী শেরপুর থেকে বদলী হয়ে ময়মনসিংহ এসেছেন। এর আগেও তিনি ময়মনসিংহ প্রায় ৪ বছর নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভুক্তভোগী একাধিক ঠিকাদার জানান, শুধু চলতি বছরের জুন মাসেই প্রকৌশলী ছামিউল হক নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের অগ্রিম বিল প্রদানসহ নানাভাবে কাজ পাইয়ে দিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারদের বিল নিয়ম বর্হিভূতভাবে নিজের নামে উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য করেছেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী ছামিউল হক বলেন, আমি এখন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিসে আছি। এ সময় গজিয়াবাড়ি বালু ভরাট ও সীমানা প্রাচীর প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব কাজ হবে। সহযোগীতার অনুরোধ করছি। আপনার সব প্রশ্নের উত্তর সামনাসামনি বসে দিব।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো.আব্দুল আউয়াল বলেন, অনিয়মের বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে-বুঝে আপনার সঙ্গে কথা বলব।