সৈয়দ ফয়সাল আরিফ © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের কেমব্রিজ শহরে পুলিশের গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী সৈয়দ ফয়সাল আরিফের দাফন হয়েছে। শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) বাদ জোহর জানাজার পর রক্সবিউরিটির একটি গোরস্থানে ২০ বছর বয়সী বাংলাদেশি এই শিক্ষার্থীকে দাফন করা হয়। জানাজার আগে আরিফের মা-বাবা, দাদী এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়েরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মা-বাবার একমাত্র ছেলে আরিফ বছর সাতেক আগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০ বছর বয়সী এই তরুণ পড়ালেখা করছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের বস্টন ক্যাম্পাসে।
এর আগে আরিফের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে কেমব্রিজ শহরের চেস্টনাট স্ট্রিটে বুধবার দুপুরে। হটলাইনে পুলিশ খবর পায়, এক তরুণ ছোরা হাতে একটি অ্যাপার্টমেন্টের জানালা দিয়ে বেরিয়েছে। এরপর সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয় এবং তাদের গুলিতে প্রাণ যায় আরিফের।
এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে কেমব্রিজ শহরের বাসিন্দারা। পুলিশের গুলিতে আরিফের মৃত্যুর ঘটনাকে প্রবাসীরা দাবি করেন‘পুলিশি হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে।
আরও পড়ুন: অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখে ফেলায় স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা
আরিফের জানাজায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের বলেন, দুপুরে কলেজে যাওয়ার জন্য আরিফ তার বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। ফলে তিনি জানালা দিয়ে বেরিয়েছেন, খালি গায়ে রাস্তায় ছিলেন, এসব তথ্য তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না।
আরিফ ‘হত্যার’ বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার কেমব্রিজ সিটি হল প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা, তাতে অংশ নেয় আরিফের সহপাঠীরাও।
মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যারিয়েন রায়ান বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশের হটলাইনে ফোনটা করেছিলেন কেমব্রিজপোর্টের এক বাসিন্দা। তিনি বলেছিলেন, এক তরুণ খালি গায়ে ঘরের জানালা দিয়ে লাফিয়ে রাস্তায় নেমেছে, তার হাতে বড় আকারের একটি ছুরি রয়েছে। তরুণটি নিজেকে ছুরিকাঘাতে আহত করার চেষ্টা করছে।
এ খবর জেনে ডজনখানেক পুলিশ সেখানে যায়। তারা ওই তরুণকে থামতে বললে তাতে সাড়া না দিয়ে তিনি চেস্টনাট স্ট্রিট দিয়ে দৌড়াতে থাকেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ছুরিটি ফেলে দিতে বলা হয়।তরুণটি তখন ছুরি উঁচিয়ে পুলিশের দিকে তেড়ে যায় বলে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির ভাষ্য।
তিনি বলেন, “এ অবস্থায় পুলিশ তার দিকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুরুতর অবস্থায় বস্টন জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”