বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ © সৌজন্যে প্রাপ্ত
প্রথম ওয়ানডেতে হেরে বেশ চাপেই ছিল বাংলাদেশ। সিরিজে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প ছিল না, আর সেই ‘বাঁচা-মরার’ ম্যাচেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। নাহিদ রানার ফাইফার এবং ব্যাটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ। ফলে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন অঘোষিত ফাইনাল, যেখানে জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত করবে টাইগাররা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৮ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকেরা।
লক্ষ্য তাড়ায় আক্রমণাত্মক শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম বলেই চার হাঁকানোর পর একই ওভারে আরেকটি বাউন্ডারি মারেন ওপেনার সাইফ হাসান। তবে ভালো শুরুটা বড় করতে পারেননি তিনি। প্রথম ওভারের শেষ বলেই আউট হয়ে ফেরেন, ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে ৬ বলে ৮ রান আসে।
পরে সৌম্য সরকার শুরুতে ধীরস্থিরভাবে খেললেও ইনিংসের চতুর্থ ওভারে একটি ছক্কা হাঁকান। কিন্তু সেই ওভারেই শেষ বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন। সৌম্যর ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।
মাত্র ২১ রানে দুই উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন তামিম আর শান্ত। তৃতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে আশা দেখান এই দুজন। ছক্কা হাঁকিয়ে হাফ-সেঞ্চুরিও তুলে নেন তামিম। মাঝে সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন এই টাইগার ওপেনার। তার আগেই অবশ্য তাকে থামান জেডেন লিনক্স। ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন তামিম, কিন্তু সেটি ঠিকঠাক মতো হয়নি। দারুণভাবে বল তালুবন্দি করেন হেনরি নিকোলস। তামিম ফেরেন ৫৮ বলে ৭৬ রান করে।
মাঝে লিটন ৭ রান করে দ্রুত আউট হন লেনক্সের বলে। এরপর শান্ত দারুণ ব্যাটিং করে ফিফটি পূর্ণ করলেও চোটের কারণে ৭১ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন। শেষদিকে তাওহীদ হৃদয় (৩০*) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (৮*) সহজেই ম্যাচ শেষ করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
এর আগে, ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রথম চার ওভারে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম, দুজনেই একটি করে মেডেন ওভার দেন। এতে করে ওই সময় পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ৩ রান।
অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসেই সাফল্য পান নাহিদ রানা। হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউ করেন। পরের ওভারের প্রথম বলেই উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অধিনায়ক ল্যাথাম, তবে সঙ্গীর অভাবে চাপে পড়েন ল্যাথাম, শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ১৪ রান করে সৌম্য সরকারর বলে আউট হন।
অন্যপ্রান্তে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তুলে ফিফটি স্পর্শ করেন কেলি। তাকে কিছুটা সহায়তা করেন মুহাম্মদ আব্বাস (১৯) ও ডিন ফক্সক্রফট (১৫), তবে দুজনকেই ফেরান রানা। কেলি সেঞ্চুরির পথে এগোলেও শরিফুলের শিকারে হয়েই ১০২ বলে ৮৩ রান করে থামেন।
তার বিদায়ের পর রান তোলার গতি কমে যায় সফরকারীদের। শেষ দিকে ব্লেয়ার টিকনার ১২ রান যোগ করেন। আর জেডন লেনক্সকে আউট করে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ফাইফার পূর্ণ করেন রানা। শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড; শেষ ব্যাটার হিসেবে বিদায় নেন উইল ও'রউরক।
বাংলাদেশের পক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন নাহিদ। শরিফুল দুটি এবং রিশাদ, তাসকিন ও সৌম্য পান একটি করে উইকেট।