নোয়াখালী-সিলেট ম্যাচ © সংগৃহীত
নাসুম আহমেদের স্পিন ঘূর্ণিতেই ধসে পড়েছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটিং লাইন -আপ। পরে তৌফিক তুষারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অনায়াসেই জয় পায় সিলেট টাইটান্স। এ নিয়ে টানা চতুর্থ ম্যাচে হারল নোয়াখালী, অন্যদিকে দুই ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল স্বাগতিকরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৬১ রানেই অলআউট হয়ে যায় নোয়াখালী। জবাবে ৮ দশমিক ৪ ওভারে ৬ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। ৬ ম্যাচে সিলেটের এটি তৃতীয় জয়।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দ্রুতই ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন তৌফিক। ৭ চার ও ১ ছক্কায় মাত্র ১৮ বলে ৩২ রান করেন তিনি।
অন্যপ্রান্তে জাকির হাসানও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন, সমান একটি করে চার ও ছক্কায় ২৪ রান যোগ করেন এই ব্যাটার।
শেষ দিকে আফিফ হোসেন অবশ্য হতাশা বাড়ান, মাত্র ২ রান করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।
নোয়াখালীর হয়ে আফগানিস্তানের বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার জহির খান দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৮ রানে তিন উইকেট শিকার করেন।
এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই শুরু হয় নোয়াখালীর ব্যাটিং বিপর্যয়। দলীয় ২৮ রানে ৪ বলের ব্যবধানে জোড়া উইকেট হারানোর পর ইনিংসের সপ্তম ওভারেও ২ উইকেট খুইয়ে ফেলে বেশ বিপাকে পড়ে দলটি।
মাঝে তিন ওভারের বিরতিতে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিললেও নাসুমের ঘূর্ণিতে সেই প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে। পরে ১৫ রানের মধ্যেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৬ ব্যাটারই বিদায় নেন।
শুরুতেই সৌম্য সরকারকে ফেরানো নাসুম ১১তম ওভারের পঞ্চম বলে হায়দার আলীকেও সাজঘরে পাঠান। শেষ ওভারে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন সিলেটের এই স্পিনার। ১৩তম ওভারে টানা দুই বলে মেহেদী হাসান রানা ও জহির খানকে আউট করেন।
হ্যাট্রিকের সুযোগ নষ্ট হলেও পরের বলেই বিলাল সামিকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। মাত্র ৮ বলেই ৫ শিকার, ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে অসাধারণ স্পেল নাসুমের।
শেষ পর্যন্ত ১৫তম ওভারে মোহাম্মদ আমির ইনিংস সেরা ২৫ রান করা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে আউট করলে মাত্র ৬১ রানেই গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। এটি বিপিএলের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এই তালিকায় ৪৪ রান করে সবার ওপরে খুলনা, ২০১৬ সালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল রংপুর।