রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের মানববন্ধন © টিডিসি
ভারতে মুসলমানদের ওপর চলমান নির্ঘাতন, মসজিদ ভাঙচুর, হামলা ও উগ্রবাদী সন্ত্রাসের প্রতিবাদে শাহবাগে মানববন্ধন করেছে ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন। আজ শনিবার (৯ মে) দুপুর ১২টায় রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা।
এ সময় তারা ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ, দিল্লি না ঢাকা, ঢাক ‘ ইত্যাদি স্লোগান দেয় তারা।
মানববন্ধের সময় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম কেন্দ্রীয় সদস্য মুহাসীন হাসান সারোয়ার বলেন, ‘ভারত একটা হিন্দুত্ববাদ তৈরি করে হিন্দুদের ওপরে আক্রমণ করছে। পশ্চিমবঙ্গে অনেক ভোটার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমরা তার ধিক্কার ও নিন্দা জানাচ্ছি। ভারতে মুসলমানদের ওপর যে হামলা করছেন, আপনাদের বলতে চাই যদি আবারও মুসলমানদের জাগিয়ে তুলুন, তাহলে কিন্তু পার পাবেন না। আমরা মুসলিমদের মধ্যে কোনো বিভাজনে বা সংঘাতে বিশ্বাসী নই। আমরা শান্তির পক্ষে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারকে বলছি ইন্ডিয়া হাইকমিশনকে ডেকে এনে যেন দ্রুত মুসলিমদের ওপর হামলার সমাধান করে। আর যদি সন্ত্রাসী সংগঠন এই গেরুয়া বাহিনী বিজেপি যদি মানুষ হত্যা বন্ধ না করে তাহলে কিন্তু আমরা বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাও দিতে বাধ্য হব।’
মুহাসীন হাসান সারোয়ার বলেন, ‘ওসমান হাদির বিচার যদি না বাংলাদেশ সরকার না করতে পারে। বাংলাদেশে ন্যায়-ইনসাফ আজাদি তৈরি হবে না। আমরা কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে আমরা দেখতে চাই না। প্রত্যেকটা নাগরিক তার দেশের আইডেন্টিটি ব্যবহার করবে, কেউ এদেশের সংখ্যালঘু নয়। আমরা বলতে চাই আমাদের দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলি। কোনো দলীয় স্বার্থে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান করি নাই। আমরা বলতে চাই শাপলা চত্বরে হয়েছিল, পিলখানায় এবং জুলাইয়ে যে হত্যা হয়েছিল দ্রুত তার সঙ্গে জড়িতদের বিচার কার্য নিশ্চিত করতে হবে । নইলে কিন্তু আবাল জনতা আপনাদের ছাড় দেব না।’
এ সময় কওমি মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ মোহাম্মদ হামিদ সাফওয়ান বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোয় মুসলমানদের ওপর আক্রমণ, মসজিদগুলোতে হামলা ও মুসলমান ব্যবসায়ীদের দোকানপাটের ওপর আক্রমণ লুটপাটের চিত্র আমাদের সামনে এসেছে। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, মুসলমান সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ এটি কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানাচ্ছি অনুরোধ করছি ফেইস দ্য পিপলসের প্রকাশিত বাংলাদেশের ১৪ জন শিক্ষার্থী যারা ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে আটক রয়েছেন মানবেতর জীবন যাপন করছেন কেউ ৮ বছর কেউ ৫ বছর কেউ ১৩ বছর যাবত জেলখানায় বন্দী আছেন তাদেরকে মুক্তির ব্যবস্থা করুন।’
এ সময় মুফতি ওবায়দুল্লাহ নাইম বলেন, ‘প্রত্যেকটা মুসলমান একটা দেহের ন্যায়। সে ভারতীয় হোক বা পাকিস্তানি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে হোক না কেন সে মুসলমান। সেই অনুসারে ভারতে যে মুসলমানদেরকে হত্যা করা হচ্ছে মসজিদ এবং মুসলমান শরীয়তে আঘাত করা হচ্ছে সেই জায়গা থেকে আমরা বাংলাদেশের মুসলমান আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সেই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’