‘বাংলা সংকেত ভাষা দিবস’ আজ, যেভাবে এলো

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৫ AM
ইশারা ভাষা

ইশারা ভাষা © সংগৃহীত

আজ ৭ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলা ইশারা ভাষা দিবস’। বিদ্যায়তনিক পরিমণ্ডলে ইংরেজি Sign Language-এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে ‘সংকেত ভাষা’ শব্দটি স্বীকৃত হওয়ায় দিনটি ‘বাংলা সংকেত ভাষা দিবস’ নামেও পরিচিত। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এ সংকেত ভাষা।

মানব সভ্যতার শুরুতে মানুষ বিভিন্ন সংকেত ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেই যোগাযোগ করত। গবেষকদের মতে, আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ বছর আগে মানুষ মৌখিক ভাষার ব্যবহার শেখে এবং লিখিত ভাষার বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর। সে হিসেবে ভাষা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানব মস্তিষ্ক ও ভাষার প্রকাশভঙ্গি হয়েছে আরও সমৃদ্ধ। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে যোগাযোগ সহজতর হলেও সমাজে এখনও এমন মানুষ রয়েছেন, যারা জন্মগতভাবে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধকতার কারণে বাচনিক ভাষায় ভাব প্রকাশ করতে পারেন না।

তবে তারা ভাষাহীন নন। তারা বাচনিক ভাষার পরিবর্তে সংকেত ভাষার মাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি, মতামত ও চিন্তা প্রকাশ করে থাকেন। সংকেত ভাষা আজ বিশ্বব্যাপী একটি বহুল ব্যবহৃত ভাষিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

ন্যাশনাল সেনসাস অব দ্য ডিফ পপুলেশন (এনসিডিপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজির বাইরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১৩টি ভাষার মধ্যে স্প্যানিশ ও চীনা ভাষার পরেই রয়েছে আমেরিকান সংকেত ভাষা। দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ এই ভাষায় পারস্পরিক যোগাযোগ করে থাকেন।

ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ দ্য ডেফ-এর তথ্য মতে, সারা বিশ্বে প্রায় ৭ কোটি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশেই এই সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। তবে দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ৯০৭ জন বাকপ্রতিবন্ধী এবং ৪৭ হাজার ৪৯০ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধী।

এই বিপুলসংখ্যক মানুষের ভাষাগত অধিকার নিশ্চিত করতে ১৯৯২ সালে ‘জাতীয় বধির সংস্থা’ ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের আদলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বাংলা ইশারা ভাষার বিধান প্রণয়ন ও প্রকাশ করে।

২০০৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা ইশারা ভাষাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংবাদ বুলেটিনে সংকেত ভাষার ব্যবহার শুরু হয়।

এছাড়া, জাতিসংঘের Convention on the Rights of Persons with Disabilities (CRPD)-এর আলোকে প্রণীত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন–২০১৩’-এ বাংলাদেশের সকল ইশারা ভাষার প্রচার ও প্রসারের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে আইন অনুযায়ী সংকেত ভাষা উন্নয়ন ও বিস্তারে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়।

বাংলা সংকেত ভাষা দিবস উপলক্ষে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের ভাষাগত অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সংকেত ভাষার ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা জরুরি।

ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, এখন পর্যন্ত এ দেশে ৩৫ লক্ষাধিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে বাক্প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৪৮ জন এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার ৬২৬ জন। 

উপদেষ্টা বলেন, শিশুদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায়। 

একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, এবার ভরি কত?
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘আয় হাদীর লাশ নিয়ে যা’—এর চেয়ে বড় শ্লেষ জুলাই-পরবর্তী সময়ে …
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পে স্কেল বাস্তবায়ন কবে, যা আছে বিএনপির ইশতেহারে
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইনসাফকে রুখে দেওয়ার জন্য কারা কাজ করছে, জানতে চাই: রাশেদ প্…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে ইনকিলাব মঞ্চ
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাবিতে ভর্তির বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণের বর্ধিত সময় শেষ আজ
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬