জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজ (ইনসেটে তদন্ত প্রতিবেদন) © সংগৃহীত
নওগাঁর ধামইরহাটে জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ইলিয়াস আলমের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগসহ একাধিক অনিয়মের সত্যতা উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
গত বছরের ২৩ এপ্রিল স্থানীয় তফিকুল ইসলামসহ এলাকাবাসীর দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক মো. কাওছার হোসেন তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্ত শেষে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অধিকাংশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে ৫ জন কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ জনবল কাঠামো উপেক্ষা করে মাধ্যমিক ও কলেজ শাখাকে আলাদা দেখিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে আরও ৬ জনকে নিয়োগ দেন। এ ছাড়া এক যুগের বেশি সময় ধরে একই ব্যক্তিকে সভাপতি রেখে মোট ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ে একজন করে ল্যাব সহকারী নিয়োগের বিধান থাকলেও বাস্তব প্রয়োজন ছাড়াই ৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের অধিকাংশই অধ্যক্ষের আত্মীয়স্বজন ও নিজ এলাকার বাসিন্দা। এমনকি কম্পিউটার ল্যাব না থাকা সত্ত্বেও ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের মাঠের মেহগনি, আম, কাঁঠালসহ প্রায় ৭০টি গাছ অনুমোদন ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ একর জমির ওপর থাকা প্রায় ১২ শত বনজ গাছের বাগান এবং দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করে সেই অর্থ ব্যাংকে জমা না দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, কলেজ শাখার বিষয় অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা না থাকা সত্ত্বেও এনটিআরসিএতে তিনজন শিক্ষক নিয়োগের জন্য চাহিদা প্রদান করা হয়, যা বিধিবহির্ভূত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তদন্ত কার্যক্রম শুরুর আগেই গোপনে মারুফা খাতুন নামে একজনকে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার এমপিওভুক্তির দুই মাস পর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে কোনো তথ্য দেননি অধ্যক্ষ।
অভিযোগকারী তফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যক্ষ ইলিয়াস আলম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১০ সালে নিয়োগ পান। এরপর থেকে নিয়োগ বাণিজ্য, গাছ ও ভবন বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ইলিয়াস আলম অভিযোগের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের জবাব আমি পাঠিয়েছি। আয়া পদটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তার তথ্য নেওয়া হয়নি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের আলাদা শাখা থাকায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
ল্যাব না থাকা সত্ত্বেও ল্যাব সহকারী নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ল্যাব থাকলে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।’