সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ © টিডিসি সম্পাদিত
তীব্র গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বেহাল হয়ে পড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর সচল রাখতে ২০০ লিটার ডিজেল পাঠিয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এই জ্বালানি তেল পৌঁছে দেওয়া হয়।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিলেন। ওয়ার্ডগুলো অন্ধকারে ডুবে থাকায় এবং জেনারেটর বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছিল জরুরি চিকিৎসাসেবা।
সংবাদ প্রকাশের পর রোগীদের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তার ব্যক্তিগত সচিব রিদোয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম সাংবাদিকদের পাঠানো বার্তায় জানান, রোগীদের চরম দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সাবেক মন্ত্রীর পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে এই জ্বালানি তেল পাঠানো হয়েছে। এই তেলে প্রায় ১২ দিন জেনারেটর সচল রাখা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিকে সাময়িকভাবে অজ্ঞাত পরিচয়ে তেল পৌঁছানো নিয়ে শুরুতে কিছুটা ভুলবোঝাবুঝি তৈরি হলেও পরবর্তীতে তা স্পষ্ট হয়।
আরও দেখুন: ১৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, সরকারিভাবে জেনারেটরের নিয়মিত কোনো জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় এবং সীমিত তহবিলে এর ব্যয় মেটানো কঠিন হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছিল। সাবেক মন্ত্রীর পাঠানো তেল গ্রহণে নিয়মগত কিছু প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হলেও তা হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামও তার ব্যক্তিগত সচিবের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৬০ লিটার জ্বালানি তেল পাঠিয়েছেন এবং এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোনো সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকায় ২০১৮ সালে প্রাপ্ত ১০ কেভি এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সাবেক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়া ৩০ কেভি ক্ষমতার জেনারেটর দুটি সচল রাখা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই উদ্যোগের ফলে লোডশেডিংয়ের মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে আর কোনো বাধা রইল না।