বিএনপির লোগো ও নিহত যুবক © টিডিসি সম্পাদিত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে জাহেদুল ইসলাম (৩৩) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৪ দিন পর বিএনপি নেতাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহতের মা মনোয়ারা বেগম (৫৬) বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
দায়েরকৃত মামলায় পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপির সংগঠক জসিম উদ্দিন প্রকাশ মিষ্টি জসিমকে প্রধান বিবাদী করে ১৩ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ৫ থেকে ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করা হয়েছে। বিবাদীদের অধিকাংশই জসিম উদ্দিনের অনুসারী এবং স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। জসিম উদ্দিনের নামে আগেও হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা ছিল।
মামলার এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামীরা হলেন—উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনির আহমেদের ছেলে জয়নাল আবেদীন মানিক, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আহমদ কবিরের ছেলে মো. রিদুয়ান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেদা মিয়ার ছেলে টিপু প্রকাশ মিষ্টি টিপু, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজামিয়ার ছেলে মো. সাজ্জাদ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মো. আজাদ, একই ওয়ার্ডের আবু তাহের মেম্বারের ছেলে মো. ইফাজ, ফকির মিয়ার ছেলে মো. হেলাল, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ফারুকের ছেলে মো. তুষার, কবির আহমদের ছেলে মো. ফারুক, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাজা মিয়ার ছেলে মো. রবিউল, একই ওয়ার্ডের মৃত লেদু মিস্ত্রির ছেলে আবুল কাশেম প্রকাশ লইট্ট্যা কাশেম এবং একই ওয়ার্ডের তবু মিয়ার ছেলে মো. হাবিব।
নিহত জাহেদুল ইসলাম উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের উত্তর পুরানগড় গ্রামের নুরুল বাপের বাড়ির মৃত নুরুল ইসলাম প্রকাশ সর্বহারা নুরুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অপরদিকে, বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাশিম পাড়া এলাকার মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি ২০১০ সালে পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি আ. ফ. ম. মাহবুবুল হক সিকদারের বড় ভাই আবু মুছা সিকদার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। এ ছাড়াও তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখীল গ্রামের আলিম উদ্দিনকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনার মামলার প্রধান আসামি। তবে এসব মামলায় জসিম উদ্দিন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম আরিফুল ইসলাম নিহত জাহেদুলের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ৫ থেকে ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত (২৫ আগস্ট) রাতে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন কার্যালয়ের সামনে থেকে দুটি আকাশমণি গাছ চুরির ঘটনা ঘটে। এর কয়েকদিন পর রাতের আঁধারে ওই গাছগুলো কাটার মুহুর্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নিহত জাহেদকে দেখা না গেলেও জয়নাল আবেদীন মানিক গাছ চুরির সঙ্গে জাহেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেন।
এর প্রেক্ষিতে, গত ৩০ আগস্ট রাতে নতুনহাটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপির সংগঠক জসিম উদ্দিন প্রকাশ মিষ্টি জসিমের দোকানে একটি প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়। ওই সময় রাত ৮টার দিকে জাহেদ নতুনহাটে গেলে মানিককে দেখতে পেয়ে তেড়ে গিয়ে চড় মারেন। এরপর মানিকসহ সেখানে থাকা অন্যান্যরা জাহেদকে ধাওয়া দিলে তিনি মোটরসাইকেলযোগে বাজালিয়ার দিকে পালিয়ে যান।
একইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহেদ ও তার বন্ধু মোহাম্মদ ওয়াহিদ বাজালিয়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে ফেরার পথে ভাঙারগোড়া ফরিদ সওদাগরের দোকানের সামনে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে জাহেদকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে ওয়াহিদও আহত হন। পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা জাহেদকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।