মোবাইল কোর্ট © টিডিসি সম্পাদিত
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভুয়া ডাক্তার, অনুমোদনহীন আল্ট্রাসনোগ্রাফি কার্যক্রম ও অননুমোদিতভাবে ওষুধ ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে দুই ব্যক্তি, এক নারী ও দুটি ফার্মেসিকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট ও চিরিংগা পৌর শহরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিউল আলম।
অভিযানে মালুমঘাটের মা-মনি হাসপাতালের মো. আলী আকবর খানকে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে সার্জারি করা, বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন না থাকা এবং প্রয়োজনীয় ডিগ্রি ছাড়াই অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর বিভিন্ন ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
চিরিংগা সরকারি হাসপাতালের পশ্চিম পাশে হুসনে আরাকে ধাত্রীবিদ্যায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও প্রসবসংক্রান্ত চিকিৎসা ও অনুমোদনবিহীনভাবে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লেখার অভিযোগে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া সরকারি হাসপাতাল সড়কে রিদুয়ানুল কবির নিশান (ডিএমএফ)-কে অনুমতিবিহীনভাবে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লেখার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন রেখে আল্ট্রাসনোগ্রাফি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে সোনালী ট্রেডার্স ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা এবং সেইফ মেডিসিন কর্ণার ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযানে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
অভিযানে সহযোগিতা করেন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেশিওলজি) ডা. মো. মামুন-অর-রশিদ চৌধুরী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিসকাত উদ্দীন আহমদ, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আরিফুল ইসলাম, চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সশস্ত্র আনসার সদস্যদের একটি দল।
প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভুয়া চিকিৎসক ও অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।