এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
জাতীয়করণ দাবি © সংগৃহীত
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট। এতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈষম্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অভিভাবকদের আর্থিক চাপ কমাতে ৩০ হাজার ৭৮৩ স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও এসএসসি ও এইচএসসি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে দেখানো হয়েছে, ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে সরকারের প্রকৃত অতিরিক্ত খরচ হবে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদসহ সামগ্রিক ব্যয় হয় ১৭,২৩৭ কোটি টাকা। আর ডিগ্রি পর্যন্ত জাতীকরণ করলে বর্তমান খরচের চেয়ে ৯,১০০ কোটি টাকা বেশি হবে; যদিও এ সময়ে প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের বছরে মোট ৮,৪০০ কোটি টাকা আয় হবে। অর্থ্যাৎ সরকারের প্রকৃত অতিরিক্ত খরচ হবে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা। অথচ বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার প্রায় ৯৮ শতাংশের বেশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
স্মারকলিপির তথ্য, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের এক সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, দেশে মোট ৩০,৭৮৩টি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিষ্ঠান রয়েছে স্কুল পর্যায়ে, যার সংখ্যা ১৭,৪৬১টি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মাদ্রাসা, যার সংখ্যা ৮,২২১টি। এছাড়া কলেজ পর্যায়ে ২,৮১৪টি এবং এস.এস.সি কারিগরি ও এইচ.এস.সি কারিগরি পর্যায়ে ২,২৮৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অন্যদিকে, এসব এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে মোট ৬,৪৭,৩১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
খাতওয়ারি হিসাবে, স্কুলে ২,৭২,৫২৭ জন, মাদ্রাসায় ১,৭৬,৭৪১ জন, কলেজে ১,৬১,১৫৭ জন এবং কারিগরি (এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি) প্রতিষ্ঠানে ২১,৮৮৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের প্রতি মাসে ১৩৫০ কোটি টাকা হিসেবে বছরে প্রায় ১৬,২০০ কোটি টাকা খরচ হয়। এর সাথে উৎসব ভাতা (৭৫০ কোটি), বৈশাখী ভাতা (২৩০ কোটি) ও বার্ষিক প্রবৃদ্ধি (৫১ কোটি) যুক্ত হয়ে সরকারের বর্তমান মোট বার্ষিক ব্যয় দাঁড়ায় ১৭,২৩৭ কোটি টাকা।
তবে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করা হলে চিকিৎসা ভাতা (৬০০ কোটি), অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া (৫৫০০ কোটি), ২টি উৎসব ভাতা (২৫০০ কোটি) ও বৈশাখী ভাতা (৫০০ কোটি) বাবদ মোট সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে হবে ২৬,৩৩৭ কোটি টাকা, যা বর্তমান খরচের চেয়ে ৯,১০০ কোটি টাকা বেশি।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থী বেতন (২৪০০ কোটি), সেশন চার্জ (৩০০০ কোটি), প্রতিষ্ঠানের সম্পদ (১০০০ কোটি), সাধারণ তহবিল (৮০০ কোটি) ও রিজার্ভ ফান্ড (১২০০ কোটি) থেকে সরকারের বছরে মোট ৮,৪০০ কোটি টাকা আয় হবে। ফলে, সকল আয় হিসাব করলে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে সরকারের প্রকৃত অতিরিক্ত খরচ হবে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।