নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারিতে বিপর্যস্ত নলছিটির জলাশয়, হুমকিতে দেশি মাছের অস্তিত্ব

২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ PM
নলছিটির মালিপুর এলাকার একটি খালে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল পাতা হয়েছে

নলছিটির মালিপুর এলাকার একটি খালে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল পাতা হয়েছে © টিডিসি

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন খাল, বিল, নদী ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে চায়না দুয়ারি জাল। শুধু মাছ নয়, এই জালে আটকা পড়ে ধ্বংস হচ্ছে মাছের ডিম, রেণু ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী। পরিবেশবাদী, স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে দেশি প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নলছিটি পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গোপনে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ এই জাল। অনেক মৎস্য শিকারি দীর্ঘ সময় পানিতে জাল ফেলে রেখে নির্বিচারে মাছ আহরণ করছেন। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নলছিটি পৌর এলাকার বাসিন্দা হেলাল তালুকদার বলেন, একসময় কারেন্ট জালের কারণে দেশি মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন সেই ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চায়না দুয়ারি জাল। এই জালে বড় মাছের পাশাপাশি রেণু, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়। অনেক ক্ষেত্রে জাল একবার পানিতে ফেলে মাসের পর মাস তুলে নেওয়া হয় না, ফলে ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, গ্রামের বাজারগুলোয় এখন আগের মতো দেশি মাছ চোখে পড়ে না। ইতিমধ্যে অনেক দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে, বাকিগুলোও হুমকির মুখে। দেশি মাছ কমে যাওয়ায় বাজারে হাইব্রিড মাছের আধিপত্য বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তিনি উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, চায়না দুয়ারি জাল সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এই জাল ব্যবহার করেন। দেশি জাল দ্রুত পচে যাওয়ায় তা বারবার তুলে শুকাতে হয়, কিন্তু চায়না দুয়ারি জাল মাসের পর মাস পানিতে রেখেই মাছ ধরা সম্ভব।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম দেশি মাছের প্রজননের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশি মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যও স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়বে।

নলছিটি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, দেশি মাছ সংরক্ষণে সারা বছরই নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বর্ষা মৌসুমে এসব জালের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব শিগগির উপজেলাব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজবী আহমেদ সবুজ বলেন, চায়না দুয়ারি জাল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। এ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানস…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ
  • ২২ জুলাই ২০২৬
অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করতে গিয়ে অবরুদ্ধ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলি…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
এমপি নজরুলের আসন শূন্য হওয়া নিয়ে যা বলছে ইসি
  • ২২ জুলাই ২০২৬
৪২ কার্মদিবসে ফল প্রকাশ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অভূতপূর্ব গতি…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
জ্বালানি সংকট নিয়ে যা জানাল সরকার  
  • ২২ জুলাই ২০২৬