প্রতিকী ছবি © সংগৃহীত
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মাছের খামারে নেওয়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তারে জড়িয়ে রাইসা (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাইসা স্থানীয় রঘুনাথপুর গ্রামের রাজুল মিয়ার মেয়ে এবং রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রঘুনাথপুর গ্রামের নিয়ত আলীর ছেলে মো. নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে শহিদুল ইসলামের একটি পুকুর লিজ নিয়ে অবৈধভাবে মূল লাইন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ঘটনার সময় তিনি ওই চোরাই বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে মোটর চালিয়ে এক পুকুর থেকে অন্য পুকুরে পানি স্থানান্তরের কাজ করছিলেন। অসাবধানতাবশত সেই অবৈধ সংযোগের তারের সংস্পর্শে এসে শিশু রাইসা ঘটনাস্থলেই বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ হারায়।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে রাইসা বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেজুর কুড়াতে যায়। এসময় অসাবধানতাবশত অবৈধভাবে টানা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে সে। একপর্যায়ে তার শরীর ওই তারে আটকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির নিথর দেহ দেখে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে শিশুর মা বৈশাখী বারবার মূর্ছা যেতে থাকেন। তার আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়িচালক বকুল মিয়া বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণেই নিষ্পাপ শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। যারা এমন ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নিহতের চাচা মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, একটি ছোট্ট শিশুর প্রাণ চলে গেল অবহেলা আর অবৈধ কাজের কারণে। এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।
প্রায় এক ঘণ্টা পর মুক্তাগাছা থানা পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় চোরাই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।