যশোর জেনারেল হাসপাতাল © সংগৃহীত
কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ও শয্যা স্থাপন করা হলেও পাঁচ বছরেও চালু হয়নি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট। লিফট জটিলতা ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তালাবদ্ধ পড়ে থাকা এই ইউনিটের মূল্যবান যন্ত্রপাতি অব্যবহারে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। যন্ত্রপতিসহ সব অত্যাধুনিক সুবিধা থাকার পরও সাধারণ মানুষ সেবা পাচ্ছেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচ বছর আগে যশোরে কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিট ( আইসিইউ)। আধুনিক শয্যা এবং উন্নত সব মেশিনারিজ সেখানে ঠাসা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা চালু করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, শুধু লিফট জটিলতা আর প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল না থাকায় এই ইউনিটটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় প্যাকেটজাত অবস্থাতেই নষ্ট হতে শুরু করেছে মূল্যবান সব যন্ত্রপাতি। সেবা গ্রহীতারা সেবার পরিবর্তে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
যশোর উপশহরের বাসিন্দা সমিরণ সরকার বলেন, ‘এই দুটি ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু থাকলে স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাইরে গিয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ খরচ করতে হতো না। সরকারি এই সম্পদগুলো সচল না হওয়ায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই প্রাইভেট ক্লিনিক ও দূরবর্তী শহরের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে রোগীদের।’
যশোর শহরের বেজপাড়ার বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, ‘কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ এভাবে নষ্ট করার দায় নেবে কে? অতি দ্রুত জনবল নিয়োগ ও মেশিনারিজ সংযোজন করে এই আইসিইউ ইউনিটগুলো সাধারণ মানুষের সেবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।’
হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন আইসিইউ ইউনিটের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কবে ইউনিট চালু হবে, তা নিশ্চিত নয়। ফলে কার্যক্রম শুরুর আগেই যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, যশোরবাসীর স্বার্থে আইসিইউ চালু রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও কর্মচারি পাওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।