নিজ হাতে তৈরি করে রেখেছিলেন কবর, সেখানেই চির নিদ্রায় ‘তোতা মাস্টার’

০৯ মে ২০২৬, ০৯:১৬ AM
নিজ হাতে তৈরি করে রেখেছিলেন কবর

নিজ হাতে তৈরি করে রেখেছিলেন কবর © টিডিসি ফটো

জীবনের পুরোটা সময় কাটিয়েছেন সততা, আত্মমর্যাদা আর মানুষের জন্য কাজ করে। শিক্ষকতা করেছেন, আইন পেশায় থেকেছেন, গড়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিঃস্বার্থভাবে। মৃত্যুর আগেই পরকালের প্রস্তুতি হিসেবে বাড়ির উঠানেই নিজ হাতে তৈরি করেছিলেন নিজের কবর। সেই মানুষটিই অ্যাডভোকেট মো. জহুরুল ইসলাম মণ্ডল—যিনি এলাকাজুড়ে পরিচিত ছিলেন “তোতা মাস্টার” ও পরে “তোতা উকিল” নামে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দক্ষিণ জামুডাঙ্গা গ্রামের এই মানুষটির মৃত্যু হয়েছে গত ৬ মে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, কিডনি ও ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

১৯৪৫ সালের ৬ জুন জন্ম নেওয়া জহুরুল ইসলাম মণ্ডলের জীবন ছিল সংগ্রাম, শিক্ষা, নীতি ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ছোটোবেলায় পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতেন। পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে এলাকায় “তোতা মাস্টার” নামে পরিচিতি পান। শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন নিয়াতনগর উচ্চ বিদ্যালয় ও পরে জামুডাঙ্গা আদর্শ দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসা। ১৯৯৩ সালে আইন পেশায় যোগ দিয়ে হয়ে ওঠেন “তোতা উকিল”। গাইবান্ধা আদালতের সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে সততা, স্পষ্টভাষিতা ও ন্যায়বোধের জন্য সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, অত্যন্ত ধর্মভীরু ও পরকাল সচেতন ছিলেন জহুরুল ইসলাম মণ্ডল। ২০২০ সালের শেষদিকে বাড়ির উঠানের পশ্চিম পাশে নিজেই নিজের কবর প্রস্তুত করেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর যেন স্ত্রীও তাঁর পাশেই শায়িত হতে পারেন। সে কারণে পাশাপাশি দুটি কবরের স্থান পাকা করে রেখেছিলেন তিনি।

তাঁর ছেলে সাংবাদিক জিল্লুর রহমান পলাশ মন্ডল বলেন, বাবা সবসময় মৃত্যুর জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতেন। নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত আর মানুষের উপকার করাকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ মনে করতেন। নিজের কবর নিজে তৈরি করার ঘটনাটিও ছিল তাঁর পরকাল ভাবনারই অংশ।

তিনি আরও বলেন, বাবা কখনও অন্যায়ের সঙ্গে  আপস করেননি। মানুষের কষ্ট দেখলে নিজে এগিয়ে যেতেন। তাঁর পুরো জীবনটাই ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু আদর্শে অসাধারণ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে স্ট্রোক করার পর থেকে তিনি চলাফেরায় দুর্বল হয়ে পড়েন। তবুও সুযোগ পেলেই আদালতে যেতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানসিকভাবে দৃঢ় ছিলেন তিনি।

গত ৫ মে রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে চিকিৎসকরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বাদ আসর নিজ গ্রামে জানাজা শেষে বাড়ির উঠানেই, নিজের তৈরি করা সেই কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাঁকে।

স্থানীয়রা বলছেন, জহুরুল ইসলাম মণ্ডল শুধু একজন শিক্ষক বা আইনজীবী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এলাকার মানুষের আস্থা, সাহস ও নৈতিকতার প্রতীক। তাঁর মৃত্যুতে সাদুল্লাপুরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মিয়ানমারে পাচারকালে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ, আটক ১
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সারারাত এপাশ-ওপাশ? গভীর রাতে আরামদায়ক ঘুমের জন্য মেনে চলুন …
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
চবিতে ছাত্রদল নেতা মুছাকে স্মরণ, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
গভীর রাতে গুনাহ মাফ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ আমল 
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী নিহত
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950