পরকীয়ায় ধ্বংস পরিবার
সাবেক আমলা মাহবুব কবির মিলন © সংগৃহীত
সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে ইদানীং দেশের পরিবারগুলোর অন্তঃকলহ বহুমাত্রায় ধরা দিচ্ছে। যেখানের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ পরকীয়া, যেটির কারণে অনেক সংসার গড়ার আগেই ভেস্তে যাচ্ছে। অনেকই আবার পরিবারের সুখ খুঁজতে প্রবাসে থাকায় তাদের অজান্তেই স্ত্রী জড়িয়ে পড়ছেন পরকীয়ায়। সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্টে এই সামাজিক সমস্যাটির নানান মাত্রা তুলে ধরেছেন সাবেক আমলা মাহবুব কবির মিলন।
তিনি লিখেন, ‘পরকীয়ায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সংসারগুলো (নারী-পুরুষ)। ধ্বংস হচ্ছে বাচ্চাদের জীবন। অবশিষ্টদের অধিকাংশই স্বামী স্ত্রীর ঝগড়াঝাঁটি, কলহ-বিবাদ, ইগো সমস্যা নিয়ে সংসারগুলোকে বানিয়ে রেখেছে জাহান্নাম। সেই জাহান্নামের আগুনে পুড়ছে বাচ্চারা। সন্তানেরা শুধু পুড়ছে আর পুড়ছে।’
একসময় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা মিলন আরও লিখেন, ‘অধিকাংশ পুরুষ তাদের স্ত্রীদের সামান্য মর্যাদা, সন্মানটুকু দেয়না। আর একজনের ঘর থেকে আনা একাকী মেয়েটা হচ্ছে সংসারের গোলাম। বাচ্চা উৎপাদনের যন্ত্র আর স্বামীর ইগোর জাঁতাকলে পিষ্ট মাষকলাইর ডাল। আর এক দলের কাছে, নারী মানেই ভোগের সামগ্রী। একটাতে হয় না, একাধিক ব্যবস্থা করতে হয় তাদের। আর এক দলের সংসার ধ্বংস হচ্ছে শাশুড়িদের কারণে।’
পরকীয়ার প্রভাব সরাসরি শিশুদের ওপর পড়ছে জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘ধ্বংস হচ্ছে বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ। গড়ে উঠছে অসুস্থ, বিকৃত, বেয়াদব, পৈশাচিক প্রজন্ম। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও দেশ। পারিবারিক শিক্ষার চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বিকৃতি আরও বেশি ঘটেছে। সব শেষ। যতদিন এই ভয়াবহ দুরবস্থার উত্তরণ না ঘটবে, ততদিন এই জাতির উন্নতির কোনো অবকাশ নেই।’
মিলনের মতে, ‘মেয়েরা খুব আবেগপ্রবণ। এই আবেগই তাদের জগৎ সংসার সামলানোর প্রধান শক্তি। বাবা মা মারা গেলেও মেয়েরা সংসারের ধাক্কায় কান্না করারও সময় পায় না। অতি দ্রুত ভুলে যেতে হয় তাদের সব শোক। তারা চাকরি, সংসার, স্বামী, বাচ্চাকাচ্চা, পড়াশুনা, রান্না, সামাজিকতা, সব সামলায়। তারাই তো চিৎকার, চেঁচামেচি, কান্নাকাটি, ভাঙ্গাভাঙ্গি করবে। করতে দিন। চুপ থাকবেন। জড়িয়ে ধরুন। সব ঠান্ডা।’
তিনি জানান, ‘একজন বদরাগী স্বামী সামলানোর চেয়ে বদরাগী স্ত্রী সামলানো অনেক সহজ। শুধু চামড়া মোটা করবেন। মাথা ঠান্ডা রাখবেন। চুপ থাকবেন। সে আপনার স্ত্রী, পরকালের সঙ্গী। সে আপনার বাচ্চার মা। ভালোবাসায় ভাসিয়ে দেয়ার জন্য আর কোনো সূত্রের প্রয়োজন আছে কি!!
আমি অনেকবার এই কথা বলেছি। শুধু আমাদের বাচ্চাদের কল্যাণের জন্য বারবার বলতে থাকব। আল্লাহপাক আমার সংসারে অপার কল্যাণ দিয়েছেন। সকল প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহর। ৩৪ বছর সংসার জীবনে একবারের জন্যও আমি তার সাথে ঝগড়াবিবাদ করিনি বা চিৎকার করে কথা বলিনি ‘
সংসারে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বামী স্ত্রী কখনোই একে অপরের শত্রু বা হোস্টাইল হতে পারে না। সিংহ পুরুষেরা অসন্তুষ্ট হতে পারেন আমার কথায়। আপনারা আপনাদের শান্তিতে, আমরা আমাদের শান্তিতে থাকতে দিন প্লিজ।’