চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

০২ মে ২০২৬, ০৪:৩৪ PM
বিক্ষোভ করেছেন আজিম টাওয়ার গার্মেন্টসের শ্রমিকরা

বিক্ষোভ করেছেন আজিম টাওয়ার গার্মেন্টসের শ্রমিকরা © টিডিসি ফটো

বকেয়া বেতনের দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন সিঅ্যান্ডবি মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আজিম টাওয়ার গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। এতে বহদ্দারহাট-কালুরঘাট সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের টিফিন বিল, ওভারটাইম এবং মাতৃত্বকালীন সুবিধাসহ বিভিন্ন ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে—২০২০ সাল থেকে বকেয়া টিফিন বিল পরিশোধ, ২০২২ ও ২০২৫ সালের ওভারটাইমের পাওনা প্রদান, প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন নিশ্চিত করা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করা।

মো. মাহফুজুর রহমান লিমন বলেন, আমরা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বেতন এখনও পাইনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন সম্পূর্ণ দেওয়ার কথা থাকলেও গত বৃহস্পতিবার আমাদের কেবল এক মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় আমরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।

আকলিমা খাতুন তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর আমাদের মাতৃত্বকালীন বিল বকেয়া রাখা হচ্ছে। মালিকপক্ষ শুধু আশ্বাস দিচ্ছে কিন্তু কোনো সমাধান দিচ্ছে না। পাওনা টাকা না পাওয়ায় আমরা এখন ঘরভাড়া পর্যন্ত দিতে পারছি না।

হাসান শরিফ নামে এক শ্রমিক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বলেন, ২০২২ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ওভারটাইমের প্রায় ৪৫ হাজার টাকা সিগনেচার জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমনকি নথিপত্রে আমাদের নাম পর্যন্ত রাখা হয়নি। গত পাঁচ বছর ধরে আমাদের নাস্তার বিলও দেওয়া হচ্ছে না।

শ্রমিকদের এই অবরোধের ফলে সড়কে আটকা পড়ে সাধারণ মানুষ ও রোগীবাহী যানবাহন।

অ্যাম্বুলেন্স চালক আরিফুল ইসলাম বলেন, রোগী নিয়ে আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। আন্দোলনকারীরা মাঝেমধ্যে পথ ছেড়ে দিলেও সামনে দীর্ঘ যানজটের কারণে আমি এগোতে পারছি না।

হাবিবুল হক বলেন, জরুরি কাজে বের হয়েছিলাম, কিন্তু দীর্ঘ সময় জটে আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকা চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এ বিষয়ে বলেন, মূলত শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে বেতন সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করছি এবং দ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে। যানজট নিরসনে শিল্প পুলিশের সদস্যরা নিরলস কাজ করছেন।

মালিকপক্ষের কোনো প্রতিনিধিকে ঘটনাস্থলে দেখা না গেলেও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, পাওনা আদায়ের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

প্রথম বিয়ে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে, ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিল…
  • ১৩ জুন ২০২৬
উই আর অলমোস্ট রেডি —শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী
  • ১৩ জুন ২০২৬
৫০০ প্রতিষ্ঠান তৈরি, ৪ হাজার ভবন, নতুন এমপিও ও শিক্ষা ঋণসহ …
  • ১৩ জুন ২০২৬
অবহেলার অভিযোগে চিকিৎসককে মারধর: লাশ আটকে ডাক্তারদের প্রতি…
  • ১৩ জুন ২০২৬
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কর বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় যা হবে 
  • ১৩ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক শ…
  • ১৩ জুন ২০২৬
×