মেয়ের শখ পূরণ করতে কেনা ১টি খরগোশ থেকে শুরু, বাণিজ্যিক স্বপ্ন হুসাইনের

১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ PM
খরগোশের খামার পরিচর্যায় হুসাইন আহমেদ

খরগোশের খামার পরিচর্যায় হুসাইন আহমেদ © টিডিসি ফটো

দুই বছর আগে মেয়ের শখ পূরণ করতে একটি খরগোশ কিনেছিলেন হুসাইন আহমেদ। স্বজনদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পান আরও একটি। সেই দুই খরগোশ আজ দুই বছরে পরিণত হয়েছে একটি ছোট খামারে। শখের বশে শুরু হওয়া এই খরগোশ পালন এখন রূপ নিয়েছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনায়।

যশোর সদরের রামনগর ইউনিয়নে মোবারককঠি গ্রামের বাসিন্দা হুসাইনের এই খামারে বর্তমানে ছয়টি মা, তিনটি পুরুষ এবং ২০-২৫টি বাচ্চা খরগোশ রয়েছে। শুধু শখের খোরাক জোগানোই নয়, এখান থেকে নিয়মিত খরগোশ ও এর বাচ্চাও বিক্রি করা হচ্ছে বলে আলাপচারিতায় জানালেন হুসাইন।

হুসাইন আহমেদ জানান, করোনাকালীন বা বর্তমান সময়ে শিশুদের মোবাইল আসক্তি বড় সমস্যা। এই আসক্তি দূর করতে খরগোশ পালন দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, আপনার বাচ্চা যদি কথা না শোনে বা বেশি মোবাইল দেখে, তবে তাদের হাতে এরকম পশুপাখি তুলে দেন। এদের সাথে খেলাধুলা করলে বা প্রাণীদের সকালে খাবার দিলে বাচ্চার মন ভালো থাকবে, সে মোবাইল থেকে দূরে থাকবে এবং প্রকৃতির প্রতি তার ভালোবাসা ও যত্ন তৈরি হবে।

ছোট্ট শিশু তুবাও প্রতিদিন এই খরগোশগুলোর যত্ন নেয়। তুবা জানায়, আমি সারাদিন এদের কাছে আসি, খেলা করি। এদেরকে ঘাস, শাক, খড়পাতা আর ভুসি খেতে দিই। কোলে নিয়ে আদর করি। তুবা আরও জানায়, এদেরকে বেশি বিরক্ত করা ঠিক নয়, তাহলে এদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

​খরগোশ মূলত তৃণভোজী প্রাণী। উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, খরগোশের খাদ্যের ৮০% হওয়া উচিত সবুজ ঘাস বা লতাপাতা। বাকি ২০% হিসেবে গমের ভুসি, পুদিনা পাতা, কলমি শাক এবং ভিটামিন সি-র চাহিদা পূরণের জন্য ভুসির সাথে লেবু কেটে দেওয়া যেতে পারে।

​খরগোশ পালনে খুব বেশি ওষুধের প্রয়োজন হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো। তবে এরা গরম সহ্য করতে পারে না। ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা হলে এরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, এমনকি হিট স্ট্রোকে মারাও যেতে পারে। তাই এদের ফ্যানের নিচে বা ছায়াযুক্ত ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হয়। যেকোনো সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

​খরগোশ প্রতি দুই মাস পরপর বাচ্চা দেয়। বাচ্চা প্রসবের আগে মা খরগোশটি খাঁচার ভেতর খড়কুটো জমিয়ে নিজের মতো করে একটি বাসা বা ছানা তোলার জায়গা তৈরি করে। এটি দেখেই বোঝা যায় সে বাচ্চা দেবে।

​উদ্যোক্তা হুসাইন জানান, প্রতিবারে খরগোশ সাধারণত ৩ থেকে ৭টা পর্যন্ত বাচ্চা দেয়। তবে বাচ্চার সংখ্যা যত কম হয়, মায়ের পুষ্টির কারণে বাচ্চাগুলো তত বেশি পুষ্ট, সুন্দর ও শক্তিশালী হয় এবং দ্রুত বেড়ে ওঠে।

তিনি আরও জানান, তার ​খামার থেকে বিভিন্ন বয়সের খরগোশ বিক্রি করা হয়। ২০ দিন থেকে ১ মাস- প্রতিটি বাচ্চার দাম ১৫০ টাকা, ২ মাসের বাচ্চা ২০০ টাকা এবং পূর্ণবয়স্ক (অ্যাডাল্ট, যারা প্রতি ২ মাস পরপর বাচ্চা দিতে সক্ষম) প্রতি জোড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খরগোশের মাংসের কাবাব তৈরি হচ্ছে এবং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। উদ্যোক্তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো- সরকারি নিয়ম-নীতি মেনে এটিকে আরও বড় খামারে রূপ দেওয়া, যাতে কম খরচে মানুষ বিকল্প মাংসের চাহিদা পূরণ করতে পারে।

যশোর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, খরগোশ পালন প্রসঙ্গে জানান, যশোরে শৌখিন খরগোশ চাষির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে সদর উপজেলাতেই প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন খামারি আছেন।

খামারিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের এখানে প্রতিদিন খামারিরা আসেন। আমরা তাদের লালন-পালন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে যথাযথ পরামর্শ দিই। যারা নতুন শুরু করতে চান তাদের বলবো, খরগোশ চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি সুন্দরভাবে শিখে তারপর চাষ শুরু করুন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে খরগোশ চাষ এখনো সেভাবে প্রচলিত না হলেও, মানুষের পোষা প্রাণী পালনের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। বেকারত্ব দূরীকরণ, দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে খরগোশ পালন এক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিএসপিইউএ ওয়েবিনার: গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও গবেষণা সততা রক্…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ তুলে আত্মহত্যার চেষ্টা শিক্ষি…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
উপকূলের কাছে ফের লঘুচাপ, চার বন্দরে সতর্ক সংকেত
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
জুলাই চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে ঢাবি শিক্ষকদের ত…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক, সুস্থ থাকার ৮ সহজ উপায়
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
চাঁদা তুলতে বাধা দেওয়া ছাত্রদল নেতাদের চাপাতি-চাইনিজ কুড়াল …
  • ১২ আগস্ট ২০২৬