প্রেম করে বিয়ে
বাবার বাড়িতে শিকলবন্দি কিশোরীকে উদ্ধারের পর শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে © সংগৃহীত
পরিবারের অমতে ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেন এক কিশোরী। শ্বশুরবাড়িতে তিন মাসের সংসারও করেন। তবে বাবা-মায়ের আশ্বাসে কয়েক দিনের জন্য বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু সেই ফেরা যেন কাল হয়ে দাঁড়ায়। মাত্র দুই দিনের মাথায় স্বামীর ঘরে ফিরে যেতে চাইলে পরিবারের বাঁধার মুখে পড়েন কিশোরী। একপর্যায়ে তাকে শিকল দিয়ে ঘরের ভেতরে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে নিজ পরিবার ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।
ঘটনা জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে শ্বশুরের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া গ্রামে শিকলবন্দী অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
থানায় করা শ্বশুরের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাহাগিলী গ্রামের বাসিন্দা মজনু মিয়ার ছেলে মাহাবুব আলম মুন্নার সঙ্গে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া গ্রামের এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন মাস আগে মুন্নার হাত ধরে ঘর ছাড়েন ওই কিশোরী। বিয়ে করে সেখানে তিন মাস সংসারও করেন। কিন্তু তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে তাকে আটক করে শিকলে বেঁধে রাখা হয়।
কিশোরীর শ্বশুর মজনু মিয়া বলেন, ছেলেমেয়ে যখন আমার বাড়িতে আসে, আমি তাদের মেনে নিয়ে সংসার করতে দিই। ১৭ দিন আগে ছেলের বউয়ের ছোট বোন ও তার দাদি আমার বাড়িতে আসে। আমরা তাদের আপ্যায়ন করি। তারা মেয়ের জামাইকে মেনে নেবে বলে বউকে সঙ্গে নিয়ে যায়। আমার ছেলে কয়েকদিন আগে তার শ্বশুরবাড়ি যায় বউকে আনতে। সেখানে গিয়ে আমাকে ফোন করে জানায়, ছেলের বউকে তার বাবা-মা ১৫ দিন ধরে লোহার শিকলে বন্দী করে রেখেছে। আমাদের পরিবারে তাকে পাঠাবে না। মেয়েটাকে মারধরও করে। পরে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিই।
তিনি বলেন, তার পুত্রবধূর বর্তমান বয়স ১৭ বছর ৯ মাস। তারা নিজেরাই কোর্ট ম্যারেজ করেছেন। পুলিশ ও প্রশাসন বউকে তার বাবার বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে।
এ বিষয়ে মেয়ের পরিবারের লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে সমাজসেবা দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তারাগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসিল্যান্ডসহ পুলিশ ও আমরা ওই মেয়ের বাসায় যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, মেয়েকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুরের সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ওই কিশোরীর তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু ১৮ বছর না হওয়ায় বিয়ে রেজিস্ট্রেশন হয়নি। ১৮ বছর হতে এখনো তিন মাস বাকি। তিন মাস সে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রেই থাকবে।