বোরো ধান কাটছেন কৃষিশ্রমিকরা © সংগৃহীত
চলছে বৈশাখ মাস। যশোরের মাঠে মাঠে বোরো ধান কাটার ধুম পড়েছে। কিন্তু একদিকে শ্রমিক সংকট, তারপর বৈরী আবহাওয়ার কারণে আকাশে কখনো কালো মেঘ। মাঝেমধ্যে ঝড়-বৃষ্টি, আবার ঝকঝকে পরিষ্কার। সবমিলে শ্রমিকদের কদর বেড়েছে। এক মণ ধানের দামেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও শ্রমিক সংকট ও অনুকূল আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষক। আর শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ধান (ফসল) কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরের বোরো চাষিরা। একপ্রকার শ্রমিক সংকটে বৈরী আবহাওয়ার সময় মিলিয়ে চাষীদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাঁজ। তারপরেও এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক।
যশোরের আট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা কেউ ধান কাটছে, কেউ বাঁধছে। আবার কেউ পরিবহন করে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে। অনেকে আবার ধান কেটে মাঠেই সারছেন মাড়াই এর কাজ। এ কাজে পুরুষের পাশাপাশি আছে নারীরাও।
বৈরী আবহাওয়া বেশি থাকায় কাজের জন্য সকাল ও বিকেলকেই বেছে নিচ্ছে কৃষকরা। চৌগাছার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক গোলাম হোসেন জানান, আড়াই বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি, পোকাই কেটে দেওয়ার পরও ফসল অনেক ভালো হয়েছে। তবে শ্রমিকের ধান কাটার যে মূল্য তাতে এক মণ ধানেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণে ধান ঘরে তুলতে মোট চাষকৃত ধানের এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিকের পেছনে ব্যয় হচ্ছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরার কৃষক কালিপদ বিশ্বাস বলেন, ‘এই বছরে বোরো ধানের মৌসুমে ২ একর জমিতে ধান রোপণ করেছি। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে দায় দেনা পরিশোধ করে পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি নিজের আর্থিক জোগান দিতে সক্ষম হব।
ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি গ্রামের হোসেন আলী ও কাশেম আলীসহ আরো অনেক প্রান্তিক চাষী জানান, গত বছর শ্রমিকের দৈনিক মজুরী ছিলো ৭-৮ শত টাকা। কিন্তু এ বছর ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরেও এবার কৃষকরা ধানের দর বাজার মূল্য ভালো পাচ্ছে না। যার কারণে কৃষকরা এবার বোরো ধান চাষ করে অনেকেই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।’
জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, এ বছর বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। ফসল ভালোভাবে ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকরা সংশয়ে আছেন। মূল সমেস্যা হলো একদিকে শ্রমিক সংকট অন্যদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া। শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত কৃষকের ধান ঘরে তুলতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করেন তিনি।