মঠবাড়িয়া পৌরসভা
ফিশ মার্কেটটি খুলে না দেওয়ায় মাছ ও ফল ব্যবসায়ীরা সড়কে দোকানপাট বসান © টিডিসি
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর আগে ৩ তলাবিশিষ্ট আধুনিক বহুতল বিপণিবিতান মার্কেট নির্মাণ হলেও এখন পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয়নি। ফলে সরকার বছরে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। মার্কেটটি ফিশ মার্কেট নামেই পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মার্কেটটি খুলে না দেওয়ার ফলে মাছ ও ফল ব্যবসায়ীরা সড়কে দোকানপাট বসান। ফলে ঢাকা-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা হাইওয়ে সড়কে প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেব, মার্কেটটির মধ্যে ৮৬টি দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। খোলার বিষয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির কারণে থেমে যায়। প্রায়ই তিনি পৌরসভার কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেন। এবারও মার্কেট খোলার বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।
যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসন ও যানজটমুক্ত রাখতে সরকারের অঙ্গীকার সড়ক থেকে দোকানপাট তুলে বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়া। এ কর্মসূচি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা শহরে চলমান। অথচ মঠবাড়িয়া পৌরসভায় বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও সড়ক ও ফুটপাতে ফল, মাছের দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন বছরের পর বছর ধরে।
আরও পড়ুন: ছুরিকাঘাতে হত্যা, রক্তের দাগ বারান্দায়ও-নৃশংস খুনের ঘটনা হার মানায় হরর সিনেমাকেও
ব্যবসায়ীরা জানান, নির্দিষ্ট স্থানে বসতে না পারায় প্রতিদিন মালামালের প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে। মালামালের নিরাপত্তা থাকছে না। প্রায়ই মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযানে নানাবিধ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এর মধ্যেও সড়কের প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত অর্থও নিচ্ছেন। অর্থ কারা সংগ্রহ করছেন, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি তারা।
তারা আরও জানান, মার্কেটটি নির্মাণ হওয়ার পর খুলে দেওয়ার দাবিতে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করার পর পৌরসভার শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার পরিদর্শন করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আজও খুলে দেয়নি। তাদের দাবি প্রাপ্যদের দোকান বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মার্কেট খুলে দেওয়া হোক।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আকলিমা আক্তারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মার্কেটটি উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি পরিচালনা কমিটিও করা হয়েছে। ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। আশা করি, খুব শিগগির মার্কেটটি খুলবে। একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়ক মুক্ত এবং যানজন নিরসনসহ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের মার্কেটে বসতে পারবেন।’
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, মার্কেট উদ্বোধনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এটি খুলে দেওয়া হবে।