কোমরপানিতে বোরো ধান কাটছেন শ্রমিকরা ও বেড়িবাঁধ রক্ষার চেষ্টায় কৃষকরা © টিডিসি
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের জালিয়া হাওরের বিস্তীর্ণ ফসল এবার হুমকির মুখে পড়েছে। বৈশাখ মাসে ফসল কাটার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাহাড়ি ঢল ও দুর্বল বেড়িবাঁধ নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। জালিয়া হাওর তার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ ও বিশাল জলরাশির জন্য পরিচিত। এখানকার উৎপাদিত ধানসহ বিভিন্ন ফসল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে। কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে গত কয়েক বছরে কৃষকদের জীবনমান উন্নত হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্নির ফেরিঘাট থেকে জুগির খাল পর্যন্ত নির্মিত বেড়িবাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও ছবিতে বাঁধটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা স্পষ্ট হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানির চাপ বাড়তে থাকায় যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, দিনরাত পাহারা দিয়েও তারা উদ্বেগমুক্ত হতে পারছেন না। ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতি তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মোজাফরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হাসান বলেন, ‘স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে বাঁধ মেরামত ও মজবুত করার কাজ করা হবে। পানি প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সময়মতো টেকসই পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতিবছরই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওরাঞ্চলের ফসল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর বেড়িবাঁধ নির্মাণ ছাড়া বিকল্প নেই। অন্যথায় প্রতিবছরই কৃষকদের এ ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জালিয়া হাওরের শস্যভান্ডার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘উপজেলা শস্য ভান্ডার হল এই জালিয়ার হাওর। এলাকার মানুষ স্থানীয় ভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন। আমরা কৃষকদেরকে দ্রুত ধান কাটার জন্য পরামর্শ প্রদান করেছি।এখন পর্যন্ত হাওরের ৮ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। আজ পর্যন্ত ৩০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে পানি বাড়লে জমির ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।। আর এই বেড়ি বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তারাই এই বাঁধ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জনগণের পাশে থাকবেন বলে আমার বিশ্বাস।’