ধুলিয়া লঞ্চঘাটের পাশে নদীতীরে দোকানঘরের নির্মাণকাজ চলছে © টিডিসি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর তীর দখল করে বাণিজ্যিক দোকানঘর নির্মাণ করছেন প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যবসায়ী। উপজেলা প্রশাসনের এক সাবেক কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাজার মালিক সমিতির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এ অবৈধ দখল চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীভাঙন রোধে ৭১২ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়b করা ব্লক নির্মাণ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধুলিয়া লঞ্চঘাটের পাশে নদীতীরে কয়েকটি দোকানঘরের নির্মাণকাজ চলছে। গণমাধ্যমের উপস্থিতিতেও শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, আগে সেখানে তাদের দোকান ছিল। ব্লক নির্মাণ প্রকল্পের সময় সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়। পরে ২০২৫ সালে তৎকালীন ইউএনও আমিনুল ইসলামের কাছে আবেদন করলে তারা আবার ঘর নির্মাণের অনুমতি পান। ধুলিয়া বাজার সমিতি এ বিষয়ে সভা করে আটজনকে দোকান নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেয়।
নদীর জায়গা দখলে বাজার কমিটির সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্বীকার করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজান হাওলাদার। তিনি বলেন, বাজার সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আটজন ব্যক্তিকে দোকানঘর নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তিতে উল্লেখ আছে, সরকারের প্রয়োজনে তারা দোকান সরিয়ে নিতে বাধ্য থাকবেন।
ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মহম্মদ জহির আহমেদ জানান, নির্ধারিত স্থানটি নদীর অংশ। লঞ্চঘাটে বিআইডব্লিউটিএর পল্টুনের ২০০ গজের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম নেই। তবে বর্তমানে নির্মাণকাজ চলার বিষয়টি তিনি অবগত না। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে উচ্ছেদের বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন এসিল্যান্ড সোহাগ মিলু।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালীর বাউফলের ধুলিয়া লঞ্চঘাট হতে বরিশালের বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা এলাকা পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন প্রায় ৭১২ কোটি টাকায় ব্লক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।