বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (ইনসেটে গ্যারেজের বন্ধ শাটার ) © টিডিসি
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজের শাটার বিকল থাকায় দেড় মাস ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। এতে উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ব্যস্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় আহত রোগী এখানে আনা হয়। কিন্তু গুরুতর রোগীদের সিলেটে পাঠানোর প্রয়োজন হলে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় রোগী ও স্বজনদের পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিকল্প যানবাহনে রোগী স্থানান্তর করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরাদ্দ-সংকটসহ নানা জটিলতায় এর আগে প্রায় দেড় বছর অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কয়েক মাস আগে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে সেটি সচল করা হয়। তবে কয়েক দিন সেবা দেওয়ার পরই নতুন করে অচল হয়ে পড়ে। এবার কারণ গ্যারেজের শাটার বিকল হয়ে যাওয়া। শাটার নষ্ট থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজ থেকে বের করা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একটি উপজেলার একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘ সময় অচল থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামিম আহমেদ বলেন, ‘একটি শাটার মেরামতে খুব বেশি সময় বা খরচ লাগে না। অথচ দেড় মাস ধরে অ্যাম্বুলেন্স অচল পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি দায়িত্বহীনতার পরিচয়।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, ‘শাটার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি ইঞ্জিনিয়ারিং কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা মেরামত না করলে আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।’
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত শাটার মেরামত করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু না করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।