গাংনী থানা, মেহেরপুর © সংগৃহীত
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বিষাক্ত আগাছানাশক পান করে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, ছাত্রকে নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামে বিষপান করেন ওই শিক্ষক। পরে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস।
নিহত ২৫ বছর বয়সী সাব্বির হোসেন একই উপজেলার দেবীপুর গ্রামের প্রয়াত কাফিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক ছিলেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সম্প্রতি মাদ্রাসার এক শিশুকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়, তবে পরে তা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তেরাইল দারুচ্ছুন্নাত মোখতারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সম্রাট বিশ্বাস বলেন, অভিযোগ ওঠার পর ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং পরে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, কয়েকদিন ধরে সাব্বির হোসেন নওদাপাড়ায় তার নানার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার দুপুরে তিনি ঘাসনাশক বিষাক্ত কীটনাশক পান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।