বাজারে তরমুজের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হাওলাদার © টিডিসি
‘মালের দাম বাড়তি, তেলের খরচ বাড়তি—মাল এনে বিক্রি করে কোনো লাভ পাই না।’ হতাশা ঝরানো কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ভোলা খালপাড়ের তরমুজ ব্যবসায়ী সগির মিয়া।
রবিবার (২৯ মার্চ) দিনভর ভোলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজের বাজারে চলছে মন্দাভাব। সদর রোড, খালপাড়, কাঁচাবাজার ও নতুন বাজার, চরফ্যাশন বাজারসহ জেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোয় সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে দাম পড়ে গেছে, আর এতে চাষি ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই পড়েছেন চরম বিপাকে।
মৌসুমের শুরুতে যে তরমুজ ভালো দামে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে সেই একই তরমুজ বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় দিনের শেষে অনেককে বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য ছাড়তে হচ্ছে। কেউ কেউ বিক্রি না হওয়ায় তরমুজ ফেলে রেখে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। অন্যদিকে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে পাইকারি দাম কমে যাওয়ায় খরচ তুলেই লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চরফ্যাশনের নুরাবাদ ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের তরমুজ চাষি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘গত বছর তরমুজ চাষে ভালো লাভ হয়েছিল। কিন্তু এবার লাভ তো দূরের কথা, লোকসানের আশঙ্কা করছি। ঋণ নিয়ে চাষ করেছি—সেটা পরিশোধ নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় আছি।’
রসুলপুর ইউনিয়নের আরেক চাষি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ছয় কানি জমিতে চাষ করেও এখন পর্যন্ত অর্ধেক টাকাও তুলতে পারেননি। ভালো ফলন হলেও বাজারদর না থাকায় অনেক চাষিই উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।’
চরফ্যাশন বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ‘ঈদের আগে যে তরমুজ ২০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন ৫০ টাকাও কেউ দিতে চায় না।’
একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী মো. আলমগীর যোগ করেন, ‘যে দামে কিনছি, সেই দামে বিক্রি করাও কঠিন হয়ে গেছে। ক্রেতারা মনে করেন, সবকিছু যেন ফ্রি!’
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. শামিম আহমেদ জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। জেলায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা সামগ্রিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।