ময়মনসিংহে ১১ দিনে হামে আক্রান্ত ১০৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি, ৩ শিশুর মৃত্যু

২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৩০ PM
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেড্রিয়েটিক ওয়ার্ড

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেড্রিয়েটিক ওয়ার্ড © সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০৫ রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছোঁয়াচে রোগ ‘হাম’-এর পরিস্থিতি সামলাতে গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম, করা হয়েছে পৃথক কর্নার।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে ২৪ মার্চ হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে হাসপাতাল প্রশাসন। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের তিনটি পৃথক কক্ষ করা হয় হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য। ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোয় একটি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে শিশুদের। তবে কক্ষগুলোতেও রোগী সংকুলান হচ্ছে না।

এক বিছানায় দুই শিশুর চিকিৎসা
হাসপাতালের শিশু বিভাগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৪৬ জন শিশু রোগী হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। নির্ধারিত একটি কক্ষে ১০ জন হামে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার কথা থাকলেও তাতে ধরছে না রোগী। এক বিছানায় দুই রোগীর চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, ধারণক্ষমতার বেশি রোগী থাকায় অন্য রোগীদের সঙ্গেই হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে।

ওই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, সাড়ে পাঁচ মাস বয়সী মরিয়ম আক্তারকে নিয়ে বিছানায় বসে আছেন মা মিম আক্তার। তার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার তারাগাই এলাকায়। গত মঙ্গলবার ভর্তি হন। মিম আক্তার বলেন, ‘ঈদের আগে থেকে মেয়ের জ্বর ছিল। স্থানীয়ভাবে ওষুধ খাওয়ালেও ভালো হয়নি। মেয়ের জন্মের পর একবার একসঙ্গে চারটি টিকা দিলেও পরে ঠান্ডাজনিত অসুখের কারণে পরবর্তী সময়ে আর কোনো টিকা দিতে পারিনি।’

এই শিশুর পাশেই একই বিছানায় ৯ মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে আছেন শেরপুরের নকলা থেকে আসা জহিরুল ইসলাম। শুক্রবার ছেলেকে নিয়ে ভর্তি হন। জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে পাঁচ দিন নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি থেকে গেছি। বাড়িতে নেওয়ার পর হাম বের হয়ে যায়। পরে গতকাল আবার এসে ভর্তি হয়েছি। কী কারণে এমন হলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলাদিয়া গ্রামের সাড়ে আট মাস বয়সী ছেলে মুসাআবকে নিয়ে শনিবার ভর্তি হয়েছেন শাহানাজ বেগম। তিনি বলেন, ‘ছেলের জন্মের পর সব টিকা দিয়েছি, কিছুই মিস করিনি।’

কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে জমজ দুই সন্তানকে নিয়ে মঙ্গলবার ভর্তি হন আল আমিন ও নাজমা আক্তার দম্পতি। জুঁই ও জুনাইনা নামের দুই শিশুর বয়স ১৪ মাস। ৯ মাসের সময় হামের টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও বেড়াতে যাওয়া সে টিকা দিতে পারেননি বলেন নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘টিকা না দিলে এমন হইব, জানলে টিকাটা আগেই দিতাম।’

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখে, মাথায় প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয় ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যেও নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য লক্ষণ রয়েছে।

শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মাজহারুল আমিন বলেন, ‘হামের টিকা নিয়েছে এবং নেয়নি, দুই ধরনের রোগীই আমরা পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোনো রোগীকে আইসিইউতে পাঠানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। কয়েক মাস ধরে এক-দুজন রোগী পাওয়া গেলেও এ মাসেই বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তিনটি ‍পৃথক কর্নার করা হলেও সেখানে রোগী না ধরায় হাম আক্রান্ত রোগীদের শতভাগ আইসোলেশনে রাখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া অন্য রোগীদেরও চাপ রয়েছে।’

চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৯ শিশু, মৃত্যু হয়েছে ৩ শিশুর
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডকে তিনটি ভাগে ভাগ করে শিশু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুটি ওয়ার্ডকেই শিশু ওয়ার্ড বলা হয়। এই শিশু ওয়ার্ডে সব ধরনের শিশু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। শনিবার বেলা তিনটার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে শিশু রোগীদের ভিড় দেখা যায়। শয্যা, মেঝে ও বরান্দা—সর্বত্র রোগী। ৬০ রোগীর শয্যার বিপরীতে এখানে ৩০০-৪০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকে সব সময়, এমনটি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এই হাসপাতালে ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরের কিছু অংশ থেকে রোগী ভর্তি করা হয়।

কী বলছেন চিকিৎসকেরা
শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান জানান, হাসপাতাল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ রোগী থেকে হামে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাম আক্রান্ত রোগী সাধারণ রোগীদের মধ্যে আছে, এমন সংখ্যা কম। খোঁজ করে পেলে সেই রোগীকে নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। আপাতত তিনটি কক্ষে রোগীদের রাখা হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে আর কী করা যায়। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) লোকজন এই হাসপাতালে এসে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছেন। কিন্তু কী কারণে হঠাৎ হাম আক্রান্ত বেড়ে গেল, তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে শিশুদের টিকাদানে সমস্যা হওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে। আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যদের দূরে রাখতে হবে ও সাবধানে থাকতে হবে। এই রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে।

অবশেষে ক্ষমা চাইলেন হাতিরঝিল থানার ওসি
  • ২৯ মার্চ ২০২৬
আদালত থেকে সুখবর পেলেন বাবর আজম
  • ২৯ মার্চ ২০২৬
১১ জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার, তালিকা দেখুন এখানে
  • ২৯ মার্চ ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে কমছে না জ্বালানির সংকট, ভোগান্তিতে গ্রাহক
  • ২৯ মার্চ ২০২৬
অফিসার নিয়োগ দেবে আকিজ গ্রুপ, আবেদন শেষ ১৫ এপ্রিল
  • ২৯ মার্চ ২০২৬
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে প্রাথমিকের নতুন বই রিভি…
  • ২৯ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence