২ মাসের চেষ্টায় মালিককে খুঁজে সোনার গহনা ফিরিয়ে দিলেন দোকানি

১০ মার্চ ২০২৬, ১২:২৯ AM
মালিককে খুঁজে সোনার গহনা ফিরিয়ে দিলেন দোকানি

মালিককে খুঁজে সোনার গহনা ফিরিয়ে দিলেন দোকানি © সংগৃহীত

একদিন আনমনে রাস্তায় হাঁটছিলেন মুদি দোকানি হানিফ মিয়া (৪৭)। হঠাৎ চোখে পড়ে চাকচিক্যময় এক গহনা (কানের দুল)। কুড়িয়ে হাতে নিয়ে দেখেন এটি স্বর্ণ। তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানান আশপাশের কয়েকজনকে। তবে সোনার এই গহনা আসলে কার তা কেউ নিশ্চিত হতে পারেনি। পরে দুই মাস নিজের কাছে রেখেই নানা জায়গায় খোঁজ করেছেন গহনার মালিকের। অবশেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রচেষ্টায় তা ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রকৃত মালিকের হাতেই।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে গহনা মালিকের সন্ধান পেয়ে তা অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবেই তার হাতে পৌঁছে দেন হানিফ মিয়া।

‎ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ এলাকায়। এই এলাকাতেই বাড়ি হানিফের। তার এমন সততায় ভাসছেন প্রশংসায়।

‎কয়েকমাস আগে এই এলাকাতেই কানের দুলটি হারান উপজেলার পাঠামারা গ্রামের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমি আক্তার। তার পরিবার এই গহনার খোঁজ করেছে নানা জায়গায়। একপর্যায়ে তা পাওয়ার আশাই ছেড়ে দেন। তবে আচমকা এমনভাবে হারানো গহনা পেয়ে অনেকটাই অবাক হন সুমি ও তার পরিবার।

জানা যায়, হানিফ মিয়া গহনা পাওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে খুঁজতে থাকেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক রুমন হায়দার ও আশরাফুল ইসলাম মারুফের দ্বারস্থ হন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন তারা। এরপরই রবিবার (৮ মার্চ) তা দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সুমির পরিবার। পরে তাদের যোগসাজশে হানিফ মিয়া ও সুমির পরিবারকে একসঙ্গে করে তা যাচাই-বাছাই শেষে ফিরিয়ে দেয়া হয় গহনা।

এ বিষয়ে সুমির মা হনুফা আক্তার বলেন, গহনা হারিয়ে অনেক মন খারাপ ছিল। এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এতো টাকার জিনিস পেয়েও যে কেউ ফিরিয়ে দিবে তা ভাবতে পারিনি। সমাজে এখনো অনেক ভালো মানুষ আছে। হানিফ ভাইদের মতো মানুষরা আছে বলেই বিশ্বাস শব্দটা এখনো টিকে আছে।‎

‎মুদি দোকানি হানিফ মিয়া বলেন, অন্যের জিনিসের ওপর লোভ নেই। কত টাকাই বা আর পেতাম, আল্লাহ আমাকে দিলে এরচাইতে বেশি দিতে পারেন। সেই বিশ্বাস আমার আছে। তাই যার জিনিস তার কাছে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি। হয়তো আমার জন্য সামনে কল্যাণকর কিছু রয়েছে। গহনা মালিকের পৌঁছে দিতে পেরে স্বস্তি লাগছে, এতদিন একটা ভার বহন করছিলাম। সাংবাদিক ভাইদের ধন্যবাদ।

সাংবাদিক রোমন হায়দার ও মারুফ বলেন, সমাজের মানুষের জন্যই তো সাংবাদিকতা। একে অপরের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করে সমাজের কল্যাণই আমাদের কাজ। খুবই ভালো লাগছে এই কাজটি করতে পেরে। সমাজে ভালো মানুষের এক দৃষ্টান্ত হয়ে রইলো।

দুপুরের মধ্যে তিন অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ করতে আমিরের সেক্রিফাইস স্মরণীয় …
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
একসঙ্গে বিষপান করল যুগল, প্রেমিকার মৃত্যু, হাসপাতালে প্রেমিক
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
সড়ক অবরোধ, ছাত্র-শিক্ষক অনশনসহ কয়েকদিনে যেসব ঘটনা ঘটলো বরিশ…
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপির সদস্য হলেন ইবির বৈছাআ'র আহবায়ক সুইট
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপিতে যে পদ পেলেন জুনায়েদ-রাফে সালমানরা
  • ২০ এপ্রিল ২০২৬