চাঁদপুরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান চাষ

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৬ AM
বিরোধপূর্ণ জমি ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে

বিরোধপূর্ণ জমি ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে © টিডিসি

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে জোরপূর্বক কৃষি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই ইউনিয়নের ইব্রাহিম শেখ (৬৫), পিতা—মৃত আক্কাস আলী শেখ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাজি আবুল কালাম কতুয়াল (৬৭), পিতা—মৃত হযরত আলী কতুয়াল, সাং—কমলাপুর কতুয়াল বাড়ি, ওয়ার্ড নং-৫, ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন, থানা ও জেলা—চাঁদপুর, বাদী হয়ে চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৬৭৪/২০২৫।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বিচারাধীন অবস্থায়ও অভিযুক্ত ইব্রাহিম শেখ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তার লাঠিয়াল বাহিনী ও দলবল নিয়ে পুনরায় ওই কৃষি জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি জমির টপ সয়েল কেটে বড় গর্ত করে কূপ খনন করেন এবং কাটা মাটি দিয়ে জমির এক কোণ উঁচু করে জোরপূর্বক দখল নেন।

পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী হাজি আবুল কালাম কতুয়াল আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি ৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন এবং তার ক্রয়কৃত জমি— লক্ষ্মীপুর মৌজা, খতিয়ান নং-২৬৬০, জে.এল নং-১১৬, দাগ নং-৪৯৫৪ ও ৪১৫৫, মোট ৩৭.৫০ ও ১৯.১২ শতাংশ—নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিবাদীপক্ষ তা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যায়। জমিতে মাটি কাটতে বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশ ও ভূমি অফিসের তদন্ত
ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালত ৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে চাঁদপুর সদর উপজেলা ভূমি অফিসকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। যার (স্মারক নং- ৩১.৪২.১৩২২.০০১.০১.০০৩.২৫.১২৫১)।

পরে চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনি সরেজমিনে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তকালে অভিযুক্ত ইব্রাহিম শেখ জমি ক্রয় সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র বা অর্থ লেনদেনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তী সময়ে আদালত উভয় পক্ষকে জমিতে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন এবং কোনো প্রকার দাঙ্গা-হাঙ্গামা কিংবা নির্মাণকাজ না করার জন্য নোটিশ জারি করেন। আদালতের আদেশে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয় ৮ জুলাই ২০২৫।

অভিযোগ রয়েছে, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে ইব্রাহিম শেখ পুনরায় এর ফাঁকে তার দলবল নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক জমি দখল নেন এবং সেখানে ধান চাষও শুরু করেন। যা এই নিউজ লেখা পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে। 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবুল কালাম কতুয়াল গণমাধ্যম কর্মীদের অবগত করলে সাংবাদিকরা অভিযুক্ত ইব্রাহিম শেখের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, আবুল কালাম কতুয়াল আমার কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা নিয়েছে জমি বিক্রির কথা বলে। কিন্তু সে আমাকে জমি লিখে দিচ্ছে না। তবে জমি বিক্রির বিষয়ে কোনো টাকা লেনদেনের বৈধ প্রমাণ তিনি তদন্তাধীন ভূমি কর্মকর্তার নিকট কিংবা আদালতের কাছেও উপস্থাপন করতে পারেননি। এছাড়া তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি জমিতে কূপ খনন ও মাটি কাটার কাজ করেছেন।

যার নিকট জমির মালিক হাজি আবুল কালাম কতুয়াল জমিটি ইজারা দিয়েছেন তিনি (মো. বিল্লাল হোসেন) বলেন, ‘আমি হাজি আবুল কালাম কতুয়াল এর কাছ থেকে অনেকদিন হলো জমিটি ইজারা নিয়েছি। অথচ আমি ইজারা থাকাকালীন অবস্থায় ইব্রাহিম শেখ তার দলবল নিয়ে এসে জমিটি দখলে নেয়। তিনি বলেন, তিনি নাকি জমিটি ক্রয় করেছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তাকে জমির মূল মালিক আবুল কালাম কতুয়াল জমিটি দলিল করে দেননি।’

ওই এলাকার এক বয়স্ক নারী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘ইব্রাহীম শেখ শুধু আবুল কালাম কতুয়াল এর জমিই নয় আমার জমিও অন্যকে দিয়ে জোরপূর্বক দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করছেন।’

এক‌ই এলাকার তারা মিয়া বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন দেখে আসছি আবুল কালাম কতুয়াল এই জমির মালিক। তিনি এই জমি ইজারা দিয়েছিলেন মো. বিল্লাল হোসেন কে। অথচ হঠাৎ করে ইব্রাহিম শেখ এসে জোরপূর্বক জমিটিতে দলবল নিয়ে এসে কূপ খনন করে জমিটি তার দখলে নিয়ে নেন।’

আর‌ও একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘ইব্রাহীম শেখ কিভাবে জমিটি দখল করেন তা আমরা জানি না। এখন শুনতেছি, ইব্রাহিম শেখ নাকি আবুল কালাম কতুয়ালকে জমি বাবদ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু টাকা দিয়ে থাকলে সেটা‌ও কোনো প্রমাণাদি তিনি দেখাতে পারেননি। কোর্ট থেকে লোকজন এসেছিল তাদের তিনি কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আমরা জানি।’

ভুক্তভোগী হাজি আবুল কালাম কতুয়াল অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত ইব্রাহিম শেখ এখনো তাকে নানাভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ন্যায়বিচারের জোর দাবি জানান।

অনশনে বসা তিন শিক্ষার্থীর দাবি শুনতে রাজু ভাস্কর্যে ঢাবি ভি…
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
তারেক রহমান লন্ডনে, সালাউদ্দিন ভারতে—নেতাকর্মীরা কোথায় যাবে…
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
অনশনরত ঢাবি শিক্ষার্থীর পাশে তার মা
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
‘সরকারি দল বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে’—ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় নেতা
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
থমকে আছে ইবির সাজিদ হত্যার তদন্ত কার্যক্রম, অসন্তুষ্ট পরিবার
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
প্রথমদিনেই সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি ৫৬৮
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
close