কুয়াকাটায় সৈকতে ভেসে আসা জেলিফিশের দুর্গন্ধে পর্যটক ও স্থানীয়দের ভোগান্তি

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২২ PM , আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৩ PM
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পড়ে আছে মৃত জেলেফিশ

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পড়ে আছে মৃত জেলেফিশ © টিডিসি

পর্যটননগরী কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে জোয়ারের পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মৃত ও জীবিত জেলিফিশ ভেসে আসায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে একদিকে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় জেলেদের কাছে ‘নোনা’ নামে পরিচিত এই সামুদ্রিক প্রাণীগুলো দেখতে অনেকটা অক্টোপাসের মতো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের সঙ্গে ভেসে আসা বিভিন্ন আকারের জেলিফিশ কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক জেলিফিশ মৃত অবস্থায় থাকায় সেগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক পর্যটক সৈকতের কিছু অংশ এড়িয়ে চলছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বালুতে আটকে থাকা মৃত জেলিফিশ দ্রুত পচে যাওয়ায় পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আবু রায়হান বলেন, জেলিফিশ সম্পর্কে আগে শুনলেও এত কাছ থেকে কখনো দেখিনি। সৈকতে এভাবে বিপুল পরিমাণ জেলিফিশ পড়ে থাকলে দ্রুত পচে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে পর্যটকদের জন্য এটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের জালে অস্বাভাবিক হারে জেলিফিশ আটকা পড়ছে। জাল পরিষ্কার করতে গিয়ে জেলিফিশগুলো আলাদা করে সমুদ্রে ফেলে দিতে হচ্ছে। তাদের ধারণা, জাল থেকে ফেলা এসব জেলিফিশই জোয়ারের পানিতে ভেসে উপকূলের দিকে চলে আসছে।

ফিশারিজ বিভাগের গবেষকদের মতে, জেলিফিশ সাধারণত গভীর সমুদ্রের প্রাণী। তবে সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি কিংবা প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয়ের কারণে এরা উপকূলের কাছাকাছি চলে আসতে পারে, যা উদ্বেগজনক। বিভিন্ন প্রজাতির জেলিফিশের শরীরে দংশন কোষ থাকায় স্পর্শ করলে ত্বকে চুলকানি, ঘা এমনকি গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও উন্নত বিশ্বের কিছু দেশে জেলিফিশ উচ্চমূল্যের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জেলিফিশ উপকূলে ভেসে আসার বিষয়টি সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মৃত জেলিফিশগুলো দ্রুত অপসারণ করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বালুতে পুঁতে ফেলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বিপুলসংখ্যক জেলিফিশ ভেসে এসেছিল। সে সময় স্থানীয় প্রশাসন ও জেলেদের যৌথ উদ্যোগে জেলিফিশগুলো বালুতে পুঁতে ফেলা হয়েছিল।

শিক্ষকদের এককালীন বোনাস আটকে দিলেন মামদানি 
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
বৃষ্টি নিয়ে আজ যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনার ওয়াদা পূর্ণ করুন: ডাকসু নেত্রী জু…
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
ইতালির হোটেল রুম নোংরা করা নিয়ে মুখ খুললেন জেমস 
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু আজ, সময় জানাল এসপি ইন্টারন্যাশনাল
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ, অর্থনৈতিক সংকটের…
  • ২১ আগস্ট ২০২৬