সোনাহাট সেতুর একটি পাটাতন ভেঙে আটক পড়ে একটি ট্রাক © টিডিসি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত শতবর্ষী সোনাহাট সেতুর একটি পাটাতন ভেঙে পড়ায় থমকে গেছে জনজীবন। অতিরিক্ত ওজনের ট্রাকের চাপে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের যান চলাচল, চরম দুর্ভোগে পড়েছে তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ ও স্থলবন্দরনির্ভর ব্যবসা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে ইটবোঝাই একটি অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক সেতুতে উঠতেই বিকট শব্দে দেবে যায় স্টিলের পাটাতন। মুহূর্তেই থেমে যায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
১০ টন ধারণক্ষমতার এই সেতুতে ৩৯ টন ইটবোঝাই ট্রাক ওঠায় ঘটে এ দুর্ঘটনা। ভাগ্য ভালো—বড় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে ক্ষতিটা পড়েছে হাজারো সাধারণ মানুষের জীবনে। ঘটনার পরপরই সেতুর দুই পাশে আটকে পড়ে অসংখ্য যানবাহন। কেউ অফিসে যাওয়ার তাড়া, কেউ পরীক্ষা দিতে ছুটছে, কেউবা গরু নিয়ে হাটে পৌঁছানোর সংগ্রামে। নদীর ওপারে যেতে মানুষ ভরসা খুঁজছে ছোট ছোট নৌকায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পার হচ্ছে দুধকুমার।
রাহিজুল ইসলাম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিনের মতো সময়মতো বের হয়েছিলাম। কিন্তু এসে দেখি সেতু ভেঙে গেছে। অফিসে যেতে হবে—উপায় না পেয়ে নৌকায় নদী পার হলাম।
গরু ব্যবসায়ী আমজাদ, কাশেম ও রাসেল বলেন, ‘সকালে গরু নিয়ে হাটে পৌঁছালে ভালো দাম পাওয়া যায়। ৮টা গরু নিয়ে ভটভটিতে এসেছিলাম। এখন সেতু বন্ধ—নৌকার জন্য অপেক্ষা করছি। সময় গেলে লোকসান হবেই।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি বহুদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝেমধ্যেই পাটাতন দেবে যায়, ভাঙে—তারপর জীবিকার তাগিদে মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নেয়। স্থলবন্দরের ব্যবসা, তিন ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ—সবকিছুই এই একটি সেতুর ওপর নির্ভরশীল।
ইতিহাসের সাক্ষী এই সেতু নির্মিত হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে, ১৮৮৭ সালে। লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইনের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর গড়ে ওঠে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকাতে এর একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার বহু বছর পর এরশাদ সরকারের আমলে সড়ক সেতু হিসেবে মেরামত করা হয়। কিন্তু সেই সংস্কার আর সময়ের ভার সইতে পারছে না।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, সেতুটির ধারণ ক্ষমতা ১০ টন। কিন্তু ট্রাকটি বহন করছিল ৩৯ টন। অতিরিক্ত লোডের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রাক মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ওভারলোডের কারণে মামলা না হলেও জরিমানার বিধান রয়েছে।