জসীম উদ্দীন আহমদ ও আমন্ত্রণপত্র © সংগৃহীত
চট্টগ্রামের একটি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এক দিনের ব্যবধানে পরপর দুবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ডেকে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। নির্ধারিত সময় ও স্থানে উপস্থিত হয়েও মতবিনিময় না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের। এতে সময় ও শ্রম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পেশাগত কাজে বিঘ্ন ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নগরীর জামাল খান এলাকার দাওয়াত রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপির এই প্রার্থী হলেন আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমদ, যিনি চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর আগে ১৫ জানুয়ারি তার নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়ক এম এ হাশেম রাজুর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় দাওয়াত রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।
গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, নির্ধারিত সময়ে সেখানে গেলে প্রথমে সভা স্থগিত থাকার কথা জানানো হয়, পরে বেলা তিনটায় মতবিনিময় হবে বলে নতুন সময় ঘোষণা করা হয়। সেই সময় আবার সবাই উপস্থিত হলেও জানানো হয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত কারণে সভা স্থগিত করা হয়েছে। পরে দুঃখ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের আপ্যায়নের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে ফিরে যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেক গণমাধ্যমকর্মী অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আগাম ঘোষণা দিয়ে মতবিনিময় সভা ডেকে তা বারবার স্থগিত বা প্রত্যাহার করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। এতে সাংবাদিকদের সময়, শ্রম ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন হয়। কেউ কেউ প্রার্থীর এমন আচরণকে ‘অপরিপক্ব’ ও ‘অদায়িত্বশীল’ বলেও মন্তব্য করেন। তাঁদের মতে, আগে থেকেই জানানো হলে এই ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব ছিল।
এদিকে প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ বছরে বিএনপিতে তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না। বরং এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তাকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী করার খবরে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা যাওয়ার ছবি প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া তিনি ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
গত ১৬ জানুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বদুরপাড়া এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মাঈনউদ্দীন নামের আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিতর্কিত প্রার্থী জসীম উদ্দীনের মনোনয়ন বাতিল ও গ্রেপ্তারের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই স্মারকলিপি প্রদানের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রার্থীর ব্যক্তিগত সহকারী রাব্বির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অন্য একজনের সঙ্গে কথা বলতে বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি।
পরে প্রার্থী আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আপাতত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় হচ্ছে না। পরে আরও বৃহৎ পরিসরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।’
দুবার অনুষ্ঠান ডেকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই স্থগিত করার কারণ জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে দাওয়াত রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।