ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত বোরো বীজতলা, দিশেহারা চাষিরা

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৯ PM
শীতের কারণে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া একটি বীজতলা

শীতের কারণে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া একটি বীজতলা © টিডিসি

টানা ঘন কুয়াশা ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। নিম্ন তাপমাত্রাজনিত ‘কোল্ড ইনজুরি’র কারণে ধানের চারা বিবর্ণ হয়ে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করছে। এতে বোরো মৌসুমের শুরুতেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

যশোরের শার্শার কৃষকরা বীজতলা রক্ষায় ছাই ছিটানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ নানা উদ্যোগ নিলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা কার্যকর হচ্ছে না। কোথাও অঙ্কুরোদগম বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কোথাও গজানো চারা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে বোরোসহ অধিকাংশ ফসলের বীজতলা ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ে। চলতি পৌষ মাসের শুরু থেকেই এ অঞ্চলে তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমতে শুরু করে।

চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে এক হাজার ১৭৫ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতে এখনো চারা প্রস্তুত করা যায়নি।

ইতোমধ্যে তৈরি হওয়া বীজতলার একটি বড় অংশ শৈত্যপ্রবাহে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি আরও এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকলে চারাগুলো রোপণের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যশোর জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়ে বর্তমানে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। এ সময় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাচ্ছে। গত ২০ দিনের মধ্যে পাঁচ দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে রেকর্ড হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে পড়ায় কৃষি খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শ্যামলাগাছী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, কয়েক দিনের কুয়াশায় ধানের চারা হলুদ হয়ে গেছে। রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছি, কিন্তু শীত আরও বাড়লে বীজতলা রক্ষা করা কঠিন হবে।

অগ্রভুলোট গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। শীত ও কুয়াশা যদি এমনই থাকে, তাহলে বীজতলার বড় ক্ষতি হবে।

উলাশী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় তার প্রস্তুত করা বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনো চারা রোপণ করতে পারছেন না।

বাগআঁচড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর ৫-৬ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করি। এবারও করেছি, কিন্তু চারা নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছি। রোপণের আগেই চারা হলুদ হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, এ অঞ্চলে ব্রি ধান-৫০, ৬৩, ৮৮, ১০০, ১০২, ১০৪, বিনাধান-২৫, রড মিনিকেট ও শুভলতা জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়। কিছু এলাকায় শীত ও কুয়াশার কারণে বীজতলার আংশিক ক্ষতি হয়েছে, তবে পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। কৃষকদের নিয়মিত সেচ দেওয়া, সকালে কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, সালফারজাতীয় ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং রাতে সাদা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন, আরও কতদিন চলবে বর্…
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
মিসরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়ের পর আর্জেন্টিনাকে দুঃসংবাদ দিল…
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে নোয়াখালীর থানায় যুবকের অভিযোগ, ৫ কোটি…
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে বড় সুখবর পেল আর্জেন্টিনা
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
বাবাকে ক্যান্সারে হারানোর পর এবার মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন শিক্ষ…
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
কেউ সরকারি খরচে খিচুড়ি রান্না শেখার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন…
  • ০৯ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence