মো. আলী আব্বাস রিমন © সংগৃহীত ছবি
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই থেমে গেল একটি তরুণ জীবনের পথচলা। কাবিনের দিন হবু শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আনোয়ারার এক যুবক। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে সাতটার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার পিএবি সড়কের ফাজিলখাঁরহাট বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. আলী আব্বাস রিমন (২৮)। তিনি আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরী মাজারগেট এলাকার বাসিন্দা মো. মুছার ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। আজ (শুক্রবার) তার বিবাহোত্তর কাবিন সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রিমন তাঁর শ্বশুরবাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারিতে যান। সেখানে রাতযাপন শেষে শুক্রবার ভোরে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি আনোয়ারার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে ফাজিলখাঁরহাট বাজার এলাকায় পৌঁছালে তাঁর মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কাজী মুহাম্মাদ নাহিদ বলেন, ‘ভোরের দিকে ফাজিলখাঁরহাট বাজারে একটি ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা দেখি। বাইকটি মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত ছিল। আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। ধারণা করা হচ্ছে, হয় কোনো দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কা, না হয় সড়ক বিভাজকের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনাটি ঘটে।’
নিহতের বাল্যবন্ধু মো. ফরহাদ বিন তাহের বলেন, ‘আজ রিমনের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দ শোক হয়ে গেল মুহূর্তেই। আমরা বিশ্বাসই করতে পারছি না, সে আর নেই।’
যদিও অনেক স্থানীয় দাবি করছেন, কক্সবাজারগামী গ্রীনলাইন পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এ ঘটনা ঘটে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এতে ঘটনাস্থলেই আব্বাসের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
নিহত আলী আব্বাসের চাচাতো ভাই মো. শিবলু বলেন, পুলিশ আমাদের খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে এসেছি। বিস্তারিত কিছু এখন বলতে পারতেছি না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ভোরে পিএবি সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, পারিবারিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষত রিমনের পরিবারের জন্য নতুন নয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরী এলাকায় একই মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় দুর্ঘটনায় নিহত হন রিমনের বড় ভাই সুমনের স্ত্রী।