বিএনপির লোগো ও আব্দুল খালেক © টিডিসি সম্পাদিত ও সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করা বিএনপি নেতা আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্রও স্বাক্ষর জাল করার কারণে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম (সালেহী)-এর মনোনয়নপত্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক।
রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি যে সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন, তার মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা যায়, যাচাই করা ১০ জন ভোটারের মধ্যে ৩ জনের স্বাক্ষর জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য—দুটি দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। যদিও তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন বলে দাবি করেন, তবে সে সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রমাণক দাখিল করতে পারেননি। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় তার মনোনয়নপত্র সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য জামায়াত প্রার্থীকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। আর ভোটারদের স্বাক্ষর জাল প্রমাণিত হওয়ায় আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
স্বাক্ষর জাল হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুল খালেকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো মনোনয়নপত্র যাচাই কার্যক্রম চলছে। এদিন কুড়িগ্রাম-৩ ও কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর) আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই হচ্ছে। সকালে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের বাছাই শেষ হয়েছে এবং বিকেলে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম-১ ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন হয়। সে সময় কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে তারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।