সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প ঝুঁকিতে যেসব জেলা

২২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৫ PM
রাজধানী ঢাকা

রাজধানী ঢাকা © ফাইল ফটো

বাংলাদেশকে ভূমিকম্প ঝুঁকি বিবেচনায় তিনটি পৃথক জোন—উচ্চ, মাঝারি ও নিম্ন—এ ভাগ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাদের মানচিত্র অনুযায়ী দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সর্বোচ্চ ঝুঁকির এলাকাগুলো
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মোট নয়টি জেলা সরাসরি সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছাকাছি হওয়ায় এ তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদীর অংশবিশেষ, সম্পূর্ণ কিশোরগঞ্জ জেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির কিছু অংশও একই কারণে উচ্চঝুঁকির আওতায় পড়েছে। এসব অঞ্চলে বড় ধরনের কম্পন হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

তুলনামূলক কম ঝুঁকির অঞ্চল
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, বরিশাল ও পটুয়াখালীকে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল বলে নিম্নঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।

১৯৭৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশে পাঁচটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প ঘটেছে, যার বেশিরভাগই সিলেট, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের আশপাশে অনুভূত হয়েছিল। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এসব অঞ্চলকে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের ভূকম্পনের সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতের আসাম–মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে থাকার কারণে সিলেট–ময়মনসিংহ বেল্টকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়।

বাংলাদেশের চারপাশে অন্তত পাঁচটি বড় ভূমিকম্প উৎপত্তিস্থল রয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সক্রিয় প্লেট বাউন্ডারি, নোয়াখালী–সিলেট সেগমেন্ট, সিলেট হয়ে ভারতের দিকে বিস্তৃত অংশ, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটঘেঁষা ডাউকি ফল্ট এবং মধ্যাঞ্চলের মধুপুর ফল্ট উল্লেখযোগ্য।

ঢাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ঘনবসতি ও দুর্বল ভবনের কারণে
রাজউকের তথ্য বলছে, রাজধানীতে ভবনের সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ভবন ৪ থেকে ৩০ তলা উঁচু—যেগুলোকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে এসব স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

ভূমিকম্প ও কাঠামোগত নিরাপত্তা বিষয়ে বুয়েটের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, বাংলাদেশের উপর ভূকম্পন ঝুঁকি বহুদিনের; সাম্প্রতিক কম্পনগুলো শুধু সেই পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে ৫.৭ মাত্রার কম্পনেই যদি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে আরও বড় ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, রাজধানীর বহু ভবন এখনো বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মিত হচ্ছে—যা বিপদকে দ্বিগুণ করছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার এবং কঠোর নজরদারি ছাড়া বড় বিপর্যয় ঠেকানো কঠিন হবে।

সাড়ে তিন মাসে ১০৩টি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে: রাকসুর ভিপি
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সনদপত্র যাচাই, শিক্ষককে শুনানির জন্য ডাকল এনটিআরসিএ
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‎প্রকৌশল ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের বাধা…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নানা নাটকীয়তার পর আসনটিতে ফিরছে ‘দাঁড়িপাল্লা’
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
একজন দলে ফেরালেও ৪ জনকে বহিষ্কার করল বিএনপি
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ৩২৬৩ চিকিৎসকের যোগদান
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬