কঠোর কড়াকড়ি, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে অনীহা পর্যটকদের

০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:২৫ AM , আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৯ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

কক্সবাজার শহর থেকে প্রবাল-দ্বীপ সেন্টমার্টিন পৌছতে সময় লাগে সাত-আট ঘন্টা। তাও আবার রাতযাপনের অনুমতি নেই, একই দিনই ফিরতে হবে পর্যটকদের-এমন শর্তেজুড়ে কঠোর কড়াকড়ি নির্দেশনায় সরকার দীর্ঘ ৯ মাস পর আজ ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করেছে। কিন্তু পর্যটকদের অনীহার কারনে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়ার বিআইডবিøউটিএ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে উদ্দেশ্যে কোন জাহাজ ছাড়েনি। ফলে মৌসুমেও পর্যটক শুন্য দ্বীপবাসীর মধ্য হতাশা বিরাজ করছে।  

এ বিষয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘রাত্রীযাপন বন্ধের কারনে সেন্টমার্টিনে পর্যটকরা বেড়াতে আসতে অনীহা-যার কারনে এ ভরা মৌসুমেও পর্যটক শুন্য দ্বীপে। এখানকার মানুষের অধিকাংশ জীবন যাত্রা নির্ভর করে পর্যটন আয় থেকে। ফলে পর্যটন শিল্পের মন্দার কারনে দ্বীপের মানুষের মাঝে হাহাকার চলছে। তাছাড়া কক্সবাজার থেকে ৭-৮ ঘন্টা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দ্বীপে এসে-একই দিন ফিরে যাওয়া অসম্ভ। আর এতো কড়াকড়ির করলে পর্যকরা প্রবাল দ্বীপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে দেশের এক মাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটন খ্যাত থেকে নাম মুছে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।;

জাহাজ মালিকরা জানান, প্রাথমিকভাবে নুনিয়ারছড়ার বিআইডবিøউটিএ ঘাট থেকে এ দিন ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ও ‘বারো আউলিয়া’ নামে দুটি জাহাজ সেন্টমার্টিন রুটে চলার কথা থাকলেও, জাহাজ মালিকরা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। কেননা দ্বীপে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস নির্দিষ্ট শর্তে পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে নভেম্বরে কেবল দিনের বেলায় ঘুরে ফিরে আসার নিয়মে অনেক ভ্রমণপিপাসুই সেন্টমার্টিন ভ্রমণ বাতিল করেছেন। ফলে বাধ্য হয়ে নভেম্বরে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাহাজ মালিকরা।

এ বিষয়ে সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর সাংবাদিকদের বলেন, “আজ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার অনুমতি থাকলেও আমরা জাহাজ ছাড়েনি। কারণ, দিনে গিয়ে দিনে চলে আসলে পর্যটকরা সেন্টমার্টিন যাবেন না। এটা নিশ্চিত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

শিক্ষিকা সিফাত জাহান বলেছেন, ‘সাগর কন্যা প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকের জন্য একটি অসাধারন জায়গা। কিন্তু দ্বীপে এখন রাত্রীযাপন বন্ধ থাকায় অনেকে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে। তাছাড়া আট ঘন্টা সাগর পাড়ি দিয়ে কেন যাবে দ্বীপে? আর কেউ আন্দন উপভোগ যাওয়ার ক্ষেত্রে  এতো নির্দেশনাকে অতিরিক্ত জামেলা মনে করছে, যার কারনে ইচ্ছে-থাকার সর্তেও আমার মতো অনেকে ভ্রমণে দ্বীপে যাচ্ছে না।’  

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির আহবায়ক আব্দুর রহমান বলেন, ‘ছোট-বড় মিলে আড়াই শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। কিন্তু আমাদের কোন প্রস্তুতি নেই। রাত্রীযাপন বন্ধ থাকায় কক্সবাজার থেকে ৮ ঘন্টা যাত্রা করে দ্বীপে কোন পর্যটক আসছে না। তবে হয়তো পরের দুই মাসে অল্প কিছু পর্যটক আসার সম্ভবনা রয়েছে। কিন্তু তখনও ২ হাজার পর্যটক আসবে।  তখন অবস্থা দেখে অল্প কিছু হোটেল মালিকরা প্রস্তুতি নেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।’

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে নৌযানগুলোর কতৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। এছাড়া দ্বীপে মটরসাইকেলসহ যেসব নির্দেশনা রয়েছে-সেগুলো বাস্তবায়নে নজরদারী থাকবে। বিশেষ করে দ্বীপে স্থানীয়দের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়না। ’

দ্বীপে মানতে হবে যে ১২ নির্দেশনা
সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ১২টি নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিআইডবিøউটিএ এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি পাবে না। পর্যটকদের অবশ্যই ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রæয়ারিতে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত থাকবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।
 
দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখতে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যে কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রশিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট …
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা মহিলা জামায়াতের
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডিএমপিতে যোগ দিয়েও ছাত্রদলের পক্ষে সক্রিয় ‘হাদির লাশ নিয়া য…
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রায় ৬ ঘন্টা পর শাহবাগ ছাড়ল বিক্ষোভকারী ছাত্র-জনতা 
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা, জবিতে বিক্ষোভ
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যমুনায় অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা, প্রতিবাদে রাবিতে বিক্ষোভ ম…
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬