দেশে আরও তিনজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত

০২ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৪৯ PM
অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ সন্দেহে একজনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে

অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ সন্দেহে একজনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে © সংগৃহীত

রংপুরের দুই উপজেলায় আরও তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন কাউনিয়ার এবং একজন মিঠাপুকুর উপজেলার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র বলছে, চলতি বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে রংপুরের পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুজন মারা যান। একই সময়ে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে অর্ধশত ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা যায়। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষা করে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করেছিল প্রাণিসম্পদ বিভাগ। পরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) একটি প্রতিনিধিদল ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পীরগাছা সদর এবং পারুল ইউনিয়নের অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ থাকা ১২ জন নারী-পুরুষের নমুনা সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে আটজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুজন  বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর কাউনিয়ায় অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ আছে এমন ছয়জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে দুজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। সুজন সাহা বলেন, আক্রান্ত রোগীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। হাসপাতালের কর্মী রোগীর বাসায় গিয়ে চিকিৎসা দেবেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ১৫–২০ দিন আগে ইমাদপুর ইউনিয়নের আমাইপুর গ্রামে একটি গরু অসুস্থ হলে জবাই করা হয়। পরে ওই মাংস কাটাকাটি করার পর গ্রামের পাঁচ–ছয়জনের শরীরে ঘা হয় ও অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁরা চিকিৎসা নিতে আসলে সেখানে থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এই পাঁচজনের মধ্যে একজন পুরুষের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (রোগনিয়ন্ত্রণ) এম এ হালিম লাবলু বলেন, ইমাদপুরে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদিপশুর শ্লেষ্মা, লালা, রক্ত, মাংস, হাড়, নাড়িভুঁড়ির সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবু রোগী যাতে সামাজিকভাবে কোনো হেয় পরিস্থিতির মধ্যে না পড়েন, সে জন্য তাঁদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি জানান, এ রোগ গবাদিপশু থেকে মানুষে ছড়ায়, তবে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তাই মানুষকে সচেতন হতে হবে। অসুস্থ গরু জবাই করা বা মাংস খাওয়া যাবে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু ছাইদ বলেন, গবাদিপশুর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করার পরেই গত আগস্ট থেকে তারা টিকা কার্যক্রম শুরু করেছেন। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ মানুষের নমুনা পরীক্ষা করতে দেরি করেছে। এ কারণে এখন আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পীরগাছা ছাড়াও কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, রংপুর সদর, পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী, উলিপুর ও রাজারহাটেও অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিরাপদ মাংসের জন্য বিভিন্ন জবাইখানায় গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। 

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, পীরগাছার মতো যাতে মিঠাপুকুর ও কাউনিয়া উপজেলায় আ্যানথ্রাক্স না বাড়ে সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগকে সকল গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনার জন্য বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোনো অসুস্থ গবাদিপশু যেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যাতে কেউ জবাই করতে না পারে সেই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনত…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
৬ষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসল, এনসিটিবি…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
কে জিতবেন ব্যালন ডি’অর: এগিয়ে ৩ তারকা, লড়াইয়ে আরও ৫ জন
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
বিএনপির লোকেরা মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছে: জামায়াত আমির
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
কুনমিংয়ে চীন-দক্ষিণ এশিয়ার সভ্যতা ও সংযোগবিষয়ক আন্তর্জাতিক …
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬