সড়কে ধস © সংগৃহীত
পটুয়াখালীর বাউফলে রাতের আঁধারে টর্চ জ্বেলে সড়কের প্রসস্থকরণের কাজ করে আলোচনায় আসা সেই সড়কটি নির্মাণের তিন মাসেই ধসে পড়েছে। প্রায় ২৪ কোটির বেশি টাকার প্রকল্পের সড়ক প্রসস্থকরণের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আছে। লোকচক্ষুর আড়ালে অনিয়ম আর দুর্নীতি করার জন্য রাতের আঁধারে টর্স লাইটের আলোয় গভীর রাতে কাজ করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য গত এপ্রিলেই গণমাধ্যমের খবরে প্রচারিত হয়েছিলো।
বাউফলের বগা বন্দর থেকে বাহেরচর বাজার সড়ক। এই পথেই উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষের নিত্যদৈনন্দিনের চলাচল। স্থানীয়দের ভোগান্তি কমাতে বেহাল সড়কটির প্রসস্থ করণের কাজ হাতে নেয় এলজিইডি। মেয়াদ ছিলো চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। দরপত্রে কার্যাদেশ পায় রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাইরুল কবির ও রানা বুদ্ধ এন্টারপ্রাইজ এবং চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। বরাদ্দ ছিলো ২৪ কোটি টাকারও বেশি। সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজ সম্পন্ন করেন পটুয়াখালীর ঠিকাদার যুবদল নেতা কবির খান ও যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন।
আরও পড়ুন: গবেষণায় এক টাকাও ব্যয় করেনি ২৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
এপ্রিলেই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে নানা অভিয়মের তথ্য উঠে আসলেও, কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যার ফলস্বরূপ তিনমাস না যেতেই বৃষ্টিতে সড়কের ১০ টি স্থান ধসে পড়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক যায়গায় কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, সৌন্দর্যবর্ধন পিলারও ধসে পড়েছে। সড়কের দু’পাশের মাটিসহ ধস হওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে প্যালাসাইডিং করা হয়েছে। ফলে বর্ষার পানির চাপেই কুম্ভখালী, আয়লা, ব্রিজ বাজার, ডানিডা, শহীদ জালাল গ্রাম ও দেহোপাশা এলাকায় সড়ক ধসে পড়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
একাধিকবার চেষ্টা করলেও এ বিষয়ে এলজিইডির কোনো কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।