অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এখন লেবু বিক্রেতা

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৩ AM , আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৫ AM
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল লতিফ লেবু বিক্রি করছেন

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল লতিফ লেবু বিক্রি করছেন © টিডিসি ফটো

৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষে এসে জীবিকা ও একাকিত্ব দূর করতে এখন ফুটপাতে বসে লেবু বিক্রি করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল লতিফ। বয়স ৭৪ হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। শিক্ষকতার মতো লেবু বিক্রিকেও তিনি দেখেন আত্মমর্যাদার অংশ হিসেবে। তার এই জীবনসংগ্রাম অনেকের কাছেই এখন অনুপ্রেরণার গল্প।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত যশোর সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন আবদুল লতিফ। বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক হলেও তিনি ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। ২০১৪ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসরের পর তিনি যশোর শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় একটি দুইতলা বাড়ি তৈরি করেন। বাড়ির একটি অংশ ভাড়া দিয়ে এবং টিউশনি করে তার জীবন ভালোই কাটছিল। তবে বছর তিনেক আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি টিউশনি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

এখন সংসার খরচ চালানোর জন্য আবদুল লতিফ লেবু বিক্রি করেন। গত এক বছর ধরে তিনি প্রতিদিন বিকেলে যশোর সার্কিট হাউসের সামনে রাস্তার ধারে বসে লেবু বিক্রি করেন। রাত ১০টা পর্যন্ত চলে তার এই কাজ। এতে তার দৈনিক আয় হয় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। বাড়ির ভাড়া থেকে মাসিক ৯ হাজার টাকা আসে, আর লেবু বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়ে তার সংসার চলে।

আরও পড়ুন: ‘তালা দিবা, হাতাহাতি করবা, আবার রাকসু নির্বাচন চাইবা—মামার বাড়ির আবদার?’

আবদুল লতিফ বলেন, আমি ৩৮ বছর শিক্ষকতা করেছি, শত শত ছাত্রীকে মানুষ করেছি। তারা আজ প্রতিষ্ঠিত। মাঝেমধ্যে তারা আমাকে দেখে একটু গোস্সা করে, কিন্তু বাড়িতে বসে থাকতে ভালো লাগে না। আবার জীবিকার জন্য কিছু টাকাও তো প্রয়োজন। তাই বিকেলে কিছু লেবু কিনে এনে বিক্রি করি। এতে আমার সংসার চলে যায়।

আবদুল লতিফের স্ত্রী তিন বছর আগে মারা গেছেন। তার একমাত্র ছেলে ঢাকায় চাকরি করেন। বাড়িতে পুত্রবধূ ও তাদের ছেলেমেয়ে থাকে। তিনি বলেন, লেবু বিক্রি করার আরেকটি কারণ হলো একাকিত্ব দূর করা। বাড়িতে বসে থাকলে কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয় না। কিন্তু এখানে বসলে অনেকের সঙ্গে কথা বলা যায় এবং সঙ্গ পাওয়া যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপ-আমেরিকার মতো আমাদের দেশেও কোনো কাজকে ছোট মনে করা উচিত নয়।

পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো.আবু তাহের জানান, তিনি ২০১৩ সালে বিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং পরের বছর আবদুল লতিফ অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আবদুল লতিফ সাহেব মানুষ হিসেবে ভালো। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়েছেন। মাঝেমধ্যে রাস্তায় তার সঙ্গে দেখা হয়।

এদিকে, ফুটপাতে লেবু বিক্রি করা ৭৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল লতিফের খোঁজ নিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি প্রেসক্লাব সংলগ্ন মুজিব সড়কের ফুটপাতে বসে থাকা আব্দুল লতিফের সঙ্গে দেখা করেন এবং তার খোঁজখবর নেন। এ সময় ডা. ফরিদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

 

ভাতিজা পরিচয়ে যুবদল নেতার চাঁদা দাবি, এমপি বললেন—‘আমার কোনো…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ইউরোপজুড়ে প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের রিসোর্টে ফের আগুন, যেভাবে উদ্ধার হলেন ৩০০ পর্যটক
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
চীনের প্রেক্ষাগৃহে প্রথমবারের মতো মুক্তি পেল এআই সিনেমা, আয়…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
মুত্রথলির ক্যান্সার, সতর্ক হবেন যেসব লক্ষণ দেখলে
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
‘আপনার নির্দেশে পাহাড় ভাঙতে রাজি আছি’— সাবেক প্রতিমন্ত্রীর …
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬