মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নিহত দাদি-নাতনির স্বজনরা। মঙ্গলবার সকালে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে © টিডিসি
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার শরিফুলের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে স্বজন ও এলাকাবাসীর আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা ঈশ্বরদীর ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে দাদি-নাতনি হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত গ্রেপ্তার মূল হোতা শরিফুলকে ফাঁসির দেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শরিফের ফাঁসির দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসককে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে দাদি সুফিয়া বেগম ও বাড়ির পাশে সরিষাক্ষেত থেকে নাতনি জামিলা আক্তার সেতুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন বিকেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত শরিফুল ইসলাম শরিফকে (৩০) গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোফাজ্জাল হোসেনের ছেলে।
নিহত দাদি সুফিয়া বেগম সম্পর্কে গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল এর আপন খালা। আর নিহত জামিলা তার ভাতিজি। গ্রেপ্তারের পর শরিফুলের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় রবিবার (১ মার্চ) নিহত সুফিয়া বেগমের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন।
পরে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ প্রেসব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়। মূলত খালা সুফিয়ার বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে জামিলার ওপর কুদৃষ্টি পড়ে শরিফুলের। একদিন অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে শরীর স্পর্শ করায় শরিফুলকে চড় মেরেছিল জামিলা। সেই ক্ষোভ থেকে এ হত্যাকাণ্ড।