চট্টগ্রামের আনোয়ারা

কাঁচা রাস্তায় ভোগান্তি, ১০ হাজার মানুষের পাকা সড়কের দাবি

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:২৭ PM , আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:২৭ PM
কাঁচা রাস্তা

কাঁচা রাস্তা © টিডিসি

মাত্র পৌনে এক কিলোমিটারের একটি কাঁচা রাস্তা। এ পথ পাড়ি দিতেই নাভিশ্বাস উঠে আনোয়ারার এক গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের। উপজেলার হাসপাতাল, থানা, হাট-বাজার কিংবা উপজেলা পরিষদে যেতে হলে এই পথ ধরতেই হয় তাদের। বিকল্প সড়ক থাকলেও সেটি ঘুরপথে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া ও সময় নষ্টের শিকার হন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

বলা হচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৯ নম্বর পরৈকোড়া ইউনিয়নের কৈখাইন গ্রামের কথা। সরেজমিনে কৈখাইন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার পানি ও কাদায় কাঁচা বেড়িবাঁধটি একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। হেঁটে যাওয়া কঠিন, মোটরসাইকেল বা রিকশা-অটোরিকশা তো চলতে পারলেও, অন্য কোনো যানবাহন চলতেই পারে না। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, কর্মজীবী মানুষ সবাইকে ঘুরপথে যেতে হয় উপজেলা সদরে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদর থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ গ্রামটি একসময় দ্বীপসদৃশ ছিল। তখন যাতায়তের একমাত্র ভরসা ছিল ইছামতি খালের ডিঙি-সাম্পান। পরবর্তীতে এলজিইডির উদ্যোগে কৈখাইন-চামুদরিয়া-হযরত শাহ আলী রেজা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামটি ছত্তারহাট-মুরালী সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে ওই পথে উপজেলা সদরে যেতে ৮ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত ইছামতী খালের স্লুইসগেট ও বেড়িবাঁধ গ্রামের মানুষের জন্য আশার আলো জ্বালায়। পিএবি সড়ক থেকে এলজিইডির নয়া রাস্তা-আনোয়ারা উপজেলা সদর সড়কের সর্বশেষ প্রান্তকে কৈখাইনের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই বেড়িবাঁধ। কাঁচা রাস্তাটি দৈর্ঘ্যে মাত্র পৌনে এক কিলোমিটার হলেও এ পথ ধরে উপজেলা সদরে পৌঁছানো যায় মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। শুষ্ক মৌসুমে মাত্র ১০ মিনিটেই উপজেলা সদরে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষা এলেই এই মাটির রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, সময়ক্ষেপণ ও অর্থ অপচয় রোধের পাশাপাশি এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া, স্কুল-কলেজে যাতায়তের সুব্যবস্থা হলে গ্রামে শিক্ষার হার বাড়বে।

কৈখাইন গ্রামের শিক্ষার্থী মো. সাকিব বলেন, বর্ষায় কাঁচা রাস্তা ডুবে যায়। তখন ৮ কিলোমিটার ঘুরে কলেজে যেতে হয়। এতে নানান ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এক দোকানি বলেন, বর্ষায় এ পথ দিয়ে কোনো গাড়ি চলে না। তখন মালামাল আনতে দ্বিগুণ খরচ হয়। এতে আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কৃষক বশির আহমদ বলেন, ‘ধান কেটে কাঁদা মাড়িয়ে বাড়ি নিয়ে আসি। তবে এই মৌসুমে ফসল হাটে নিতে পারি না, রাস্তায় কাদা হওয়ার কারণে। ফলে অনেক সময় কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘এ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার ভোগান্তি সহ্য করছে। এ রাস্তা দ্রুত পাকা করার দাবি আমাদের সবার।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহেদুল আলম চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সড়কটি জিসিপি-৪ প্রকল্পের প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে রাস্তার কাজ শুরু ও সম্পন্ন করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, অচিরেই যেন কাঁচা রাস্তা পাকা হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসে যুগান্তকারী পরিবর্তন।

তিন মিনিটে দুই গোল হজম বাংলাদেশের
  • ০৩ মার্চ ২০২৬
কমিশনারসহ পদত্যাগ করলেন দুদক চেয়ারম্যান
  • ০৩ মার্চ ২০২৬
মিরসরাইয়ে চোলাই মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
  • ০৩ মার্চ ২০২৬
সেভ দ্য চিলড্রেন নিয়োগ দেবে সিনিয়র অফিসার, আবেদন শেষ ৭ মার…
  • ০৩ মার্চ ২০২৬
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘২০২৬ চায়নিজ কালচার নাইট’ উদযাপিত
  • ০৩ মার্চ ২০২৬
৫০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকদের বুঝিয়ে দিল পুলিশ
  • ০৩ মার্চ ২০২৬