আড়য়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় © টিডিসি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার আড়য়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ঘর ও আসবাবপত্র টেন্ডার (নিলাম) ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহানারা সুলতানা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের একটি টিনের চৌচালা পরিত্যক্ত ঘর এবং ঘরের লোহার বেঞ্চ ও দরজা কোনো প্রকার টেন্ডার আহ্বান বা সরকারি মূল্য নির্ধারণ ছাড়াই মাত্র ১৩ হাজার ৫ শ’ টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান এবং অভিভাবক পলাশী বেগম জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্কুলের মালামাল বিক্রির জন্য টেন্ডার আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ ঘর ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তারা ইউএনও ও ডিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শাহানারা সুলতানা বলেন, টিও-এটিও স্যারের অনুমতি নিয়েই বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রির সময় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক স্যার উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি কোনো লিখিত অনুমতির প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, “টিনগুলো মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছিল, তাই এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বিক্রি করা হয়েছে।”
নিলাম কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ আমাকে জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ বিক্রিতে গঠিত নিয়ম উপেক্ষা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।