ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে ছাত্র-জনতার অবস্থান © টিডিসি
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ফেনীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র-জনতা। মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেলা তিনটা থেকে শহরের ট্রাংক রোড দোয়েল চত্বরে এলাকায় অবস্থান নেন তারা।
এর আগে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের কেন্দ্রীয় বড় মসজিদ প্রদক্ষিণ করে ট্রাংক রোডে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা তিনটা থেকে দোয়েল চত্বরে এসে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা। একপর্যায়ে তারা সড়কে বসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় ‘জুলাই নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘জুলাই আমার চেতনা, জুলাই আমার বিশ্বাস’, ‘আমরা কি চাই, জুলাই সনদ’, ‘শহীদের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘জ-তে জুলাই সনদ, দ-তে দিতে হবে’, ‘শেইম শেইম, ইন্টিরিম’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আজিজুর রহমান রিজভী বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, সরকার তা পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবির পর সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হবে। কিন্তু বাস্তবতায় সেই সনদের কোনো অগ্রগতি নেই। এখন পর্যন্ত আমরা জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেখতে পাইনি।’
আরও পড়ুন: এইচএসসির তৃতীয় দিনে অনুপস্থিতি ও বহিষ্কার দুটোই বেড়েছে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক আবদুল আজিজ বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের বছর হতে চললেও আমরা এখনো জুলাই সনদ পাইনি। সরকারকেই জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র দিতে হবে। এ ঘোষণাপত্র না হলে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এটি নিয়ে কোনো তালবাহানা ছাত্রজনতা আর মেনে নেবে না।’
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, ‘স্বৈরাচার দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও ভারতে বসে এখনো চক্রান্ত করছে। দ্রুত দেশে এনে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গেল বছরের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে নিজাম হাজারীর নির্দেশে পরিচালিত গণহত্যার বিচার করতে হবে। সরকারকে শিগগিরই জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র দিতে হবে।’
অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন শহীদ শ্রাবণের মা ফাতেমা আক্তার, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, ইসলামী আন্দোলন ফেনী জেলা সেক্রেটারি একরামুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা, আন্দোলন আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।