১৮ দিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৮ PM , আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪১ PM
বইমেলার উদ্বোধন

বইমেলার উদ্বোধন © সংগৃহীত

ভাষার চেতনা, সংস্কৃতির বন্ধন আর জ্ঞানের আলোকধারা ছড়িয়ে দিতে শুরু হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব, অমর একুশে বইমেলা। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৮ দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আহ্বান জানালেন, বছরজুড়েই সারা দেশে বইমেলাকে ছড়িয়ে দেওয়ার।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বইমেলার উদ্বোধনের পর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলা ঘুরে দেখেন।
 
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও নগদ তিন লাখ টাকা তুলে দেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে আমরা সগৌরবে প্রতিবছর একুশ পালন করে থাকি। দিবসটি এখন শুধু আর বাংলাদেশের নয়। অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বেই পালিত হচ্ছে। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এই বাংলা একাডেমি। বাংলা একাডেমির সৃজনশীল কার্যক্রমের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অমর একুশে বইমেলা। তবে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বছরগুলোতে অমর একুশে বইমেলা অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজন করার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটি আমি আপনাদের সকলকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাব।’
 
তারেক রহমান বলেন, ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা এবং সংস্কৃতি শেখা, জানা এবং বোঝার দিকে আমাদের নাগরিকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে এই সময়ে মাতৃভাষা ছাড়াও আরও একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি এবং সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মনে হয় বিকল্প নেই আমাদের সামনে। এ জন্য আমাদের জ্ঞানে-বিজ্ঞানে-প্রযুক্তিতে মেধায় নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অফিশিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আমাদের মনে হয় কাজ শুরু করা প্রয়োজন।’
 
এ সময় বইমেলার গুরুত্ব উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলার আয়োজন হয়। তবে আমাদের বইমেলা অন্য দেশের বইমেলার মতো নয়। আমাদের বইমেলা আমাদের মাতৃভাষার, ভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত। তবে প্রতিবছর মেলার আকার-আয়তন বাড়লেও সেই হারে মনে হয় গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হচ্ছে কি না কিংবা মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কি না, এ বিষয়গুলো নিয়েও বর্তমানে চিন্তাভাবনা করার অবকাশ আছে।’
 
বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং সারা বছর দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত করা যেতে পারে কী না, সে বিষয়ে প্রকাশকদের উদ্যোগী হতে আহ্বান জানান তিনি।
 
এ সময় তারেক রহমান বই পড়ার গুরুত্ব, বাংলাদেশের মানুষের বই পড়ার প্রবণতা এবং ইন্টারনেটের কারণে বই পড়ার ওপর প্রভাব বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে বোধহয় বলার নেই। জার্মান দার্শনিক মার্কুস সিসেরোর একটি উক্তি এখানে আমি খুব প্রাসঙ্গিক মনে করি। তিনি বলেছিলেন, ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো’। খুব সম্ভবত আরেকজন বক্তা মনে হয় একই কথা বলেছেন উনার বক্তব্যে। বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা বলছেন, বই শুধুমাত্র বিদ্যা শিক্ষা কিংবা অবসরের সঙ্গীই নয় বরং বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে, যেটি মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং জাজমেন্ট ক্ষমতা বা বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়ায়। এমনকি আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও ক্ষেত্রবিশেষে কমিয়ে নিয়ে আসে।’
 
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি মানুষের বই পড়ার অভ্যাসে মনে হয় প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে খুব সম্ভবত বই বিমুখ করে তুলছে। ইন্টারনেটে অবশ্যই বই পড়া যায়। তবে গবেষকরা বলছেন, বইয়ের পাতায় কালো অক্ষরে লেখা বই পড়ার মধ্যে যে জ্ঞানের গভীরতা উপভোগ করা যায়, সম্ভবত একই দিন একইভাবে দিনের পর দিন কম্পিউটারে, মনিটরে ডুবে থেকে জ্ঞানার্জন হয়তো সম্ভব, তবে শরীরে এবং মনোজগতে এর একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়ে যায়। যুক্তরাজ্য কিংবা কানাডার মতন অনেক উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের আসক্তি পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সময়ের প্রেক্ষিতে জনজীবনে ইন্টারনেট হয়তো অনিবার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠলেও এর নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে, এ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন বোধহয়। বিশেষ করে বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ানোর উপায় আমাদের বের করতে হবে।’
      
তারেক রহমান বলেন, ‘বিশ্বের ১০২টি দেশের নাগরিকদের পাঠাভ্যাস নিয়ে গত একটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন জরিপের ফলাফল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বই পড়ার শীর্ষে রয়েছেন। সর্বনিম্ন তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান। তবে বইপ্রেমীদের এই তালিকায় দুঃখজনকভাবে ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। এটি উদ্বেগের বিষয়, ভয় পাবার বিষয় নয়।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন মানুষ গড়ে বছরে তিনটির মতো বই পড়েন। আর বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেন বছরে গড়ে ৬২ ঘণ্টা। সুতরাং অমর একুশে বইমেলা শুধুমাত্রই একটি নিছক উৎসবই বোধ হয় মনে করা ঠিক হবে না। বরং এই মেলা আমাদেরকে আরও কীভাবে বইপ্রেমী করে তুলতে পারে সেটি নিয়েও বোধহয় আমাদের কাজ করার অবকাশ রয়েছে। নিয়মিত বই পড়ায় আগ্রহী করে, নিয়মিত বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলবে আজকের এই বইমেলা, এমন এক মোহনায় দাঁড়িয়ে এটি আমরা সকলে প্রত্যাশা করতে পারি।’
 
এর আগে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। পরে পবিত্র কোরানসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর রীতি অনুযায়ী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরার নেতৃত্বে সুরসপ্তকের শিল্পীদের পরিবেশনায় গাওয়া হয় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গান। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবরতা পালন করা হয়।
 
অনুষ্ঠানে দুপুর ২ টায় স্টেজে আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, মহাপরিচালক অধ্যাপক আজম, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
 
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদত্যাগকৃত উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান, উপ-উপাচার্য মামুন আহমেদসহ একাধিক কবি, শিল্পী ও বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
 
এ বছর বইমেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ২ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় শিশুদের জন্য শিশুপ্রহর থাকছে। ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত এই মেলায় শিশুদের জন্য বিভিন্ন বই থাকবে। এ বছর মোট ৫৪৯টি স্টল এবং ৮৭টি লিটলম্যাগ থাকছে। মেলায় বই বিক্রি হবে ২৫ শতাংশ কমিশনে।

তৃণমূল পর্যায়ে এক লাখ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্য …
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টেন্ডার দাখিল করায় উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারির ওপর বিএনপি নে…
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাকৃবির সাবেক-বর্তমান ২ সভাপ…
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মিঠাপুকুরে এইচবিবি সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ বৃষ্টি আম মুকুলের ক্ষতির শঙ্কা চাষিদের
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে নাবিল গ্রুপ, বয়স ২২ বছর হলেই করুন আবেদন
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬