প্রাথমিকে পড়ুয়ারা সব পাঠ্যবই পেলেও অপেক্ষা ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিকের

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৭ PM , আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৫ PM
প্রাথমিকে পড়ুয়ারা সব পাঠ্যবই পেলেও অপেক্ষা ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিকের

প্রাথমিকে পড়ুয়ারা সব পাঠ্যবই পেলেও অপেক্ষা ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিকের © টিডিসি ফটো

নতুন বছরের প্রথম দিনে স্কুলে স্কুলে গিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষার্থী সব বিষয়ের নতুন পাঠ্যবই হাতে পেলেও মাদ্রাসার ইবতেদায়ি এবং স্কুল-মাদ্রাসার মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সব পাঠ্যবই না নিয়েই বাড়ি ফিরছে। কবে নাগাদ সবাই এসব নতুন পাঠ্যবই পাবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। পাঠ্যবই ছাড়া এসব শিক্ষার্থী কীভাবে ক্লাস করবে বুঝতে পারছে না। ফলে নতুন পাঠ্যবই না পাওয়ার আক্ষেপ রয়ে গেছে তাদের মাঝে। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় একাধিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে সরকার জানিয়েছে, নতুন বছরের প্রথম দিনে মোট ৮৩ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের প্রথমার্ধে যেন বাকি পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া যায়, সেজন্য কাজ করছে তারা। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

জানা গেছে, নতুন বছরের আগেই পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাক প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ও দাখিল স্তরের সব শিক্ষার্থী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর ওয়েবসাইটে (www.nctb.gov.bd ও www.nctb.portal.gov.bd) থেকেই সফটকপি অনলাইনে পড়তে পারবে।

আরও পড়ুন: নিম্নমানের বই ছাপিয়ে ১৯ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দুই ভাইয়ের প্রেস কর্ণফুলী-অগ্রণী

গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এনসিটিবি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে এনসিটিবি জানায়, ওইদিন থেকে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ব্রেইল পদ্ধতি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের মোট ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারবেন।

ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস উইংয়ের
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আজ বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছর পাঠ্যপুস্তক বিতরণ নিয়ে কিছু বিষয় আলোচনায় আসায় সরকার এবার অনেক আগে থেকেই পাঠ্যপুস্তক যাতে সময় মত ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া যায় পহেলা জানুয়ারিতে, সে নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। এ বিষয়ে অনেকাংশে সরকার সফল হয়েছে। আজকে পহেলা জানুয়ারিতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের চাহিদাকৃত প্রাথমিক এবং প্রাথমিক স্তরের মোট ৩০ কোটি ২ লক্ষ ৫১০৪টি পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে ২৪ কোটি ৫৯ লক্ষ ৯২১১০টি বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে। এটা মোট পাঠ্যপুস্তকের ৮৩ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য প্রস্তুতকৃত বইগুলো শতভাগ, ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ৯৫ শতাংশ বই, নবম এবং দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৮৬ শতাংশ, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৮২ শতাংশ এবং ব্রেইল পদ্ধতির ৭৭ শতাংশ বই নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সপ্তম শ্রেণির ৬৩ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণির ৫২ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বছরের প্রথম দিনে।

‘‘এ বছর যথেষ্ট সময় নিয়ে কাজ শুরু করার পরেও ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুতিতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রথম দিনে এই সময় লাগার কারণে এই দুইটা শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক হয়তো শিক্ষার্থীদের কাছে এখনো সবগুলো পুরোপুরি পৌঁছানো সম্ভব হয় নাই। তবে ডিসেম্বরের ২৮ তারিখেই সবগুলো পাঠ্যপুস্তকের পিডিএফ কপি ইতোমধ্যেই ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে যে কেউ এই পুস্তক প্রিন্ট আউট নিয়ে পড়তে সক্ষম হবেন।’’

সংবাদ সম্মেলনে প্রেস উইং থেকে বলা হয়, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আশা করছি এ বছর ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই সবগুলো পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। অন্যান্য বছরের কার্যক্রমগুলো সরকার পর্যায়ে পর্যালোচনা করে দেখেছে, আসলে গত পাঁচ বছরের কখনোই মার্চের আগে সম্পূর্ণ বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকার এবার আশা করছে যে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে এই কাজটা সম্পন্ন করা যাবে।

আরও পড়ুন: নতুন বছরের আগেই পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

‘‘এছাড়াও পাঠ্যপুস্তক পাঠ্যপুস্তকে নানা ভুল থাকে। এই ভুলগুলো সংশোধনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এবার বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১২৩টা পাঠ্যপুস্তকে বিভিন্ন শ্রেণির ভুলগুলোকে শনাক্ত করে ২২৬ জন শ্রেণি শিক্ষকের কাছে এগুলো পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তাদের মতামত নিয়ে ভুলগুলো সংশোধন করা হয়েছে এবং এই সংশোধনের পরেও দেখা গেছে যে কিছু ভুল থেকে গিয়েছিল। সেই ভুলগুলো শিক্ষক, সাংবাদিক এবং আরো সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে ছাপার অস্পষ্টতা ছিল, বানান এবং লেয়ারগত কিছু ভুলও ছিল। এগুলো চিহ্নিত করার পর ২১ দিন ধরে একটা কর্মশালা হয়েছে। সেই কর্মশালার পর এই ভুলগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সাথে ৩ শতাধিক শিক্ষক সম্পৃক্ত ছিল, যারা পরবর্তীতে এই ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে তাদের মতামতগুলো দিয়েছেন। এবার প্রথমবারের মত আপনার ইংরেজি ভার্সনের বইও সংশোধন করা হয়েছে এবং কারিগরি সহায়তার জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল যারা আছেন তাদেরকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছিল। পাঠ্যপুস্তকটাকে যত বেশি সম্ভব নির্ভর রাখা যায়।’’

পাঠ্যবই নিয়ে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ভোলায় ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই
ভোলা প্রতিনিধি: নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই ভোলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে এবার আনুষ্ঠানিক বই বিতরণ উৎসব না হলেও জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশৃঙ্খলভাবে বই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা গেছে আনন্দ ও উৎসাহ। অনেক শিক্ষার্থী নতুন বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই হাতে পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে ভোলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৩৫ জন। এসব শিক্ষার্থীর জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫০ লাখ ২৪ হাজার ১৫৩ কপি পাঠ্যবই। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ২ লাখ ৮৬ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ ছিল ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯৮ কপি বই। প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ বই বিতরণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩ লাখ ৪৬ হাজার ২১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৫ কপি বই। তবে চাহিদা অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরের সব বই এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস।

ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ জেলার ১ হাজার ৫৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের তত্ত্বাবধানে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে নিজ নিজ শ্রেণির পাঠ্যবই গ্রহণ করে।

নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে স্বস্তি, মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত
ফেনী প্রতিনিধি: নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনাতেও ফেনীতে পাঠ্যবই সংকট কাটেনি। বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে প্রয়োজনীয় বই পৌঁছানোর লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। জেলায় প্রাথমিক স্তরে শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক ও দাখিল পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা এখনো পূর্ণাঙ্গ সেট পাচ্ছে না। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ দুই স্তরে পাঠ্যবইয়ের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অসম্পূর্ণ থাকায় বছরের প্রথম দিনেই সব বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, ফেনীতে মাধ্যমিকে মোট শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৫ জন এবং মাদ্রাসায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫ জন। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ইবতেদায়ি (১ম-৫ম শ্রেণি) মোট বইয়ের চাহিদা ৪ লাখ ৫৯ হাজার ১০০টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ৩ লাখ ৫ হাজার যার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ২০০টি। 

দাখিলে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৬৮০টি ও বিতরণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার ২০০টি। এতে বই মোট প্রাপ্তির হার ৬২ শতাংশ।

এছাড়া মাধ্যমিকে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৫টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৬০টি ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৮০০টি। এতে মোট প্রাপ্তির হার ৪৫ শতাংশ। ইংরেজি ভার্সন (৬ষ্ঠ-৯ম) মোট চাহিদা ৯ হাজার ৭০০ টি যার মধ্যে এখনো বই পাওয়া যায়নি।

একই দপ্তরের তথ্যনুযায়ী, ভোকেশনাল মোট বইয়ের চাহিদা ৩১ হাজার ৭৭০টি যার মধ্যে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ২৫ হাজার ৩২৫ টি এবং বিতরণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৫০টি। এদিকে একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছরের প্রথম দিনেও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত কোনো পাঠ্যবই পায়নি।

ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণির জন্য কোনো বই আসেনি।

একই কথা জানান ফেনী পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বিপুল সরকার। তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে।

বই না পেয়ে হতাশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, নতুন বছর শুরু হলেও এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বই পাইনি। বই ছাড়া কীভাবে ক্লাস করব বুঝতে পারছি না। তানজিম আহমেদ নামে আরেক বলেন, ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির ভাইদের হাতে বই দেখছি, শুধু আমাদের শ্রেণির বই নেই। এতে আমাদের পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আবদুল মান্নান বলেন, অন্যান্য শ্রেণির বই শতভাগ পেলেও শুনেছি ৮ম শ্রেণির বই এখনো জেলায় আসেনি। কবে আসবে সে নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকে জেলায় মোট বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৫ লাখ ৬২ হাজার ৯২৮টি। চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে জেলার ৫৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে। ফেনীর ছয় উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় বরাদ্দকৃত বই ২ লাখ ৯ হাজার ৬২২টি, দাগনভূঞায় ৯১ হাজার ৬৭০টি, সোনাগাজীতে ১ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি, ছাগলনাইয়ায় ৫৯ হাজার ৬৪৪টি, পরশুরামে ৪২ হাজার ৫৮২টি ও ফুলগাজীতে ৫০ হাজার ১০টি। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চ. দা.) ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকে ইতোমধ্যে চাহিদা শতভাগ বই এসেছে। সবগুলো বিদ্যালয়ে বই পৌঁছে গেছে। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা শতভাগ নতুন বই হাতে পাবে। 

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফী উল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ বই এসেছে। প্রতিদিন বই আসছে। বছরের শুরুর দিনে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাবে না। চাহিদার শতভাগ বই কবে পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ৮ম শ্রেণির বই না আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৮ম শ্রেণির বই এখন পর্যন্ত আসেনি। আশা করছি খুব শিগগিরই বই পাওয়া যাবে।

নতুন বইয়ের ঘ্রাণে শিক্ষার্থীরা
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: নতুন বছরের প্রথম দিনে হাতে নতুন পাঠ্যবই পাওয়ার আনন্দই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আলাদা আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর ঝকঝকে মলাটের উদ্দীপনা নিয়ে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও শুরু হয়েছে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম। সকাল ১০টায় রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। 

তবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা শতভাগ বই পেলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিশেষ করে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে এখনও সব বই না পৌঁছানোয় উৎসবের আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

নতুন বই হাতে পেয়ে সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান হাসান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, বছরের প্রথম দিনেই বই পাওয়ায় নতুন প্রস্তুতি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করা সম্ভব হবে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা নিশাতও নতুন বইয়ের পাতা উল্টানোর আনন্দ নিয়ে নিজের ভালো লাগার কথা জানায়। তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই পর্যাপ্ত না আসায় ওইসব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বই না পাওয়ার আক্ষেপ রয়ে গেছে।

সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিজ্জাতুল মুনতাহা সাদিয়া বলেন, বছরের শুরুতে বই না পাওয়ায় একাধারে অনেক খারাপ লাগছে আবার আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে আমরা পিছিয়ে যাবো যা আমাদের কাছে অনেক খারাপ লাগার একটা বিষয় এবং খারাপ লাগছে আমার।

সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, তার বিদ্যালয়ে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বই পাওয়া গেলেও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই এখনও এসে পৌঁছায়নি। বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জানুয়ারির মধ্যেই সব বই পাওয়া যাবে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই হাতে থাকা শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি, কারণ এতে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে পড়াশোনার পরিকল্পনা করতে সুবিধা পায়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করায় এবার কোনো উৎসব ছাড়াই অনাড়ম্বরভাবে বই বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর ৯টি উপজেলার প্রাথমিক পর্যায়ে চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ে পৌঁছেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম আনোয়ার হোসেন জানান, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি বই নির্ধারিত সময়ের আগেই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়েছে।

বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মাধ্যমিক পর্যায়ে। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জায়েদুর রহমান জানান, জেলায় ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৮.৮১ শতাংশ বই পাওয়া গেছে। ভোকেশনাল ও দাখিল স্তরেও বই সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনও না আসার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, অবশিষ্ট বইগুলো ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং বই আসামাত্রই দ্রুত বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

বছরের শুরুতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: উৎসব শব্দটা নেই। তবে আছে নতুন বই পাওয়ার আনন্দ। নতুন বছরের শুরুর দিনে বই পেয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হওয়ায় এবার বই উৎসবের কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়নি। আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত দিন অনুযায়ী বই বিতরণ করেন।

আজ সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে নতুন বই সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীরা। বছরের শুরুতেই নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তারা।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেন জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ইংরেজি ভার্সন মিলিয়ে মোট পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ছিল ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৭২০টি। এর মধ্যে এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৩০টি বই, যা চাহিদার প্রায় ৬৯ ভাগ। বই বিতরণের হার দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

তিনি আরো জানান, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ বই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ ও স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।

বই সংকটে শিক্ষার্থীরা, একটি করে বই পেয়েই ফিরছে ক্লাসে
নাটোর প্রতিনিধি: নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও নাটোরের লালপুর উপজেলায় বই সংকটে ভুগছে বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বই পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে একটি করে বই দিয়েই পাঠ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সরেজমিনে লালপুর উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ইকরা কিন্ডার গার্ডেন কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের মাত্র একটি করে বই তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে একাধিক বিষয়ের পাঠ শুরু করতে না পেরে হতাশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে ইকরা কিন্ডার গার্ডেন কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ আসসালাম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে সানরাইজ কিন্ডার গার্ডেন কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ দিনা জানান, আমরা মাত্র ৫০ শতাংশ বই পেয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক করে বই বিতরণ করেছি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানের শিখা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৫০ শতাংশ বই দেওয়া হয়েছে। ইকরা কিন্ডার গার্ডেন কেজি স্কুলে কেন শিক্ষার্থীদের মাত্র একটি করে বই দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বছরের প্রথম দিনে ৩১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৫ টি নতুন বই পেলো নওগাঁর শিক্ষার্থীরা
নওগাঁ প্রতিনিধি: নতুন বছরের প্রথম দিনে সারা দেশের ন্যায় বিনামূল্যের সরকারি ৩১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৫ টি বই পেলো নওগাঁর নওগাঁর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। হাতে নতুন বই নিয়ে উল্লাসিত তারা। নতুন বই নিতে সকাল থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে হাজির হন তারা। বছরের প্রথম দিনে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব বই পেলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকল নতুন বই হাতে পাননি। এ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বইয়ের চাহিদা ছিল মোট ১০ লক্ষ ৮৮ হাজার ৯০৫টি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ৮৬৬টি।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলে এ বছর বইয়ের চাহিদা রয়েছে ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ৮৬৬টি, এরমধ্যে এসেছে ২০ লক্ষ ৬৮ হাজার ১৮০টি, বাকি রয়েছে ৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬৬৬টি। এরমধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বইয়ের চাহিদা রয়েছে ১৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ৪২৬ এরমধ্যে এসেছে ১২ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৫ বাদ রয়েছে ৪ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৯১ টি। মাদ্রাসায় চাহিদা রয়েছে ১০ লক্ষ ১৫ হাজার ৪০টি বইয়ের এরমধ্যে এসেছে ৭ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৮০ টি বই এখনো বাঁকি রয়েছে ২ লক্ষ ৭৯ হাজার ২৬০টি। কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বইয়ের চাহিদা রয়েছে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪০০টি এরমধ্যে এসেছে ৯৭ হাজার ২৮৫টি বাকি রয়েছে ৩৯ হাজার ১১৫টি। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ জেলার ১ হাজার ৩৭৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে বইয়ের চাহিদা অনুযায়ী ১০ লক্ষ ৮৮ হাজার ৯০৫টি বই এসেছে। ইতোমধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের বই এসেছে ৭১ হাজার ১৫৫ টি, প্রথম শ্রেণির ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯১২টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৩৪টি, তৃতীয় শ্রেণির ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৬৫০টি, চতুর্থ শ্রেণির ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৫২টি এবং পঞ্চম শ্রেণির ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ২০২টি। 

ঈশ্বর লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. তানভীর ইসলাম তুহিন বলেন, নতুন বই পেয়ে আমি খুশি। আমার খুব ভালো লাগছে। নতুন বই পাওয়া কী যে আনন্দ তা বলে বুঝানো যাবে না।

পত্নীতলা উপজেলার সুবরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, আজ শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন বই হাতে পেয়ে তাদের মাঝে যেন খুশির সীমা নেই। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সকল বই এসেছে। যা আজ শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। 

নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, এ জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বইয়ের চাহিদা রয়েছে ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ৮৬৬টি। ইতোমধ্যে বই এসেছে ২০ লক্ষ ৬৮ হাজার ১৮০টি এবং বাকি রয়েছে ৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬৬৬টি। যা আজ শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে বই গুলো আসেনি সেগুলো আসা মাত্রই শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া হবে।

গোপালগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই, অপেক্ষায় মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: নতুন বছরের প্রথম দিনেই বিদ্যালয়ে এসে নতুন পাঠ্যবইয়ের ঘ্রাণে উচ্ছ্বসিত গোপালগঞ্জের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। সকালে স্কুলে পৌঁছেই বই হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে কোমলমতিরা। তবে সেই আনন্দে পুরোপুরি শরিক হতে পারেনি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজন অনুযায়ী বই না পাওয়ায় অনেককে এখনো অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া এলাকার একাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সকাল ৯টা থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে দেখা যায় শিক্ষকদের। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হয় এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ শুরু হয়।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিবরুল ইসলাম জানান, তাদের বিদ্যালয়ে শতভাগ বই পৌঁছেছে। সকল শিক্ষার্থী আজই সম্পূর্ণ বই পাবে। তিনি বলেন, এবছর বই বিতরণকে ঘিরে কোনো আনুষ্ঠানিক উৎসব না করে রোল নম্বর অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ডেকে বই দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বইয়ের ছেঁড়া বা ছাপাজনিত কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা অভিভাবকসহ যাচাই করে নিতে বলা হচ্ছে। এতে কিছুটা সময় লাগছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। চাহিদার তুলনায় বই কম আসায় শিক্ষকরা কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কতটি বই দেওয়া যাবে—তা নিয়ে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে অনেক শিক্ষার্থী এখনো হাতে বই পায়নি।

টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কেউ ক্লাসে বসে গল্প করছে, কেউ আবার খেলাধুলায় সময় কাটাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, কখন বই দেওয়া হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। তবে শিক্ষকদের নির্দেশে তারা বিদ্যালয়েই অবস্থান করছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে বই বিতরণের রেজিস্টার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষকরা। কোন শ্রেণির কোন বিষয়ের কতটি বই এসেছে—তা হিসাব করে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস খানম বলেন, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির কিছু বই এলেও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি বেশি। কেউ কম বই পেলে মন খারাপ করবে—এই বিষয়টি মাথায় রেখেই সবাইকে কীভাবে ন্যায্যভাবে বই দেওয়া যায়, সে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ জেলার ৮৬২টি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেজি স্কুলে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মাঝে প্রায় ৬ লাখ বই বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে শতভাগ শিক্ষার্থী বই পেয়েছে।

অন্যদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ২০৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

গোপালগঞ্জের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, বছরের প্রথম দিনেই শতভাগ বই বিতরণ সম্ভব না হলেও দ্রুততার সঙ্গে সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় বই পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলার সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বই হাতে পাবে।

আনোয়ারায় বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে বই, মাধ্যমিকে চরম ঘাটতি
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: নতুন বছরের প্রথম দিনেই আনোয়ারা উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেলেও মাধ্যমিক স্তরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক সংকট। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ দাবি করছে, উপজেলার সব শিক্ষার্থী বইয়ের আওতায় এসেছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণি ছাড়া অধিকাংশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনো বই পয়নি। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মাধ্যমিক ও শিক্ষা অফিসে এ তথ্য পাওয়া যায়। 

উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর মধ্যে নির্ধারিত বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণিতে বাংলা, গণিত ও ইংরেজি এই তিন বিষয়ের মোট ৫ হাজার ৬৪৩টি বই বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে একই তিন বিষয়ের বইয়ের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৫০টি।

তৃতীয় শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান এই পাঁচ বিষয়ের বই বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৫০টি। এ ছাড়া ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বই ৪ হাজার ৮শত ৬০টি এবং হিন্দু ও নৈতিক শিক্ষা বই বিতরণ করা হয়েছে ৯শত ২০টি।

চতুর্থ শ্রেণিতে মূল পাঁচ বিষয়ের বইয়ের সংখ্যা ৬ হাজার ২৮টি। এর সঙ্গে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বই ৫ হাজার ৪৩টি এবং হিন্দু ও নৈতিক শিক্ষা বই ৯শত ৪৫টি। পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান বিষয়ের বই বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৯টি। পাশাপাশি ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বই ৪ হাজার ৬২৯টি এবং হিন্দু ও নৈতিক শিক্ষা বই ৯৪০টি দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে আনোয়ারা উপজেলায় প্রাথমিক স্তরে মোট ৬৯ হাজার ৯৯২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী বলেন, আমাদের উপজেলার সকল প্রাথমিক শিক্ষার্থী বইয়ের আওতায় এসেছে। কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।

তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মাধ্যমিক পর্যায়ে। ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনো বইবঞ্চিত। কবে নাগাদ সবাই বই পাবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে একটি বিদ্যালয়ের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে জানানো হয়েছে, 'সংশ্লিষ্ট সকলকে জানান যাচ্ছে যে, ০১/০১/২০২৬ তারিখ সকাল ১০টায় ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেণির বই বিতরণ করা হবে। অন্যান্য শ্রেণির বই পাওয়া গেলে পরবর্তীতে বিতরণ করা হবে।'

চাতরী ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, ষষ্ট ও নবম শ্রেণি ব্যতীত কোনো শ্রেণির বই এখন পর্যন্ত আমার এখানে আসেনি। ষষ্ট ও নবম শ্রেণির বইগুলো আমরা ধাপে ধাপে বিতরণ করছি। কবে নাগাদ অন্যান্য শ্রেণির বইগুলো পাবো সেটা জানি না, তবে বই আসলে শিক্ষা অফিস আমাদের জানাবে।

সিইউএফএল স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহিত আল সাদাত বলেন, নতুন বছরের প্রথম দিনে সবাই নতুন বই পাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা বই ছাড়াই ক্লাস করছি। শিক্ষকরা বোর্ডে লিখে পড়াচ্ছেন, কিন্তু বই না থাকলে বাসায় পড়া কঠিন হয়ে যায়।

পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাফি জানান, প্রাথমিকের ছোট ভাইবোনেরা বই পেলেও আমরা এখনো পাইনি। এটা খুব হতাশাজনক। পরীক্ষার সিলেবাস কীভাবে শেষ হবে, সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিমা ইসলাম বলেন,
নতুন বই হাতে নিয়ে পড়াশোনা শুরু করার আনন্দটাই আলাদা। অন্যদিকে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের প্রথম দিনে বই পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। বই ছাড়া নিয়মিত পড়াশোনা সম্ভব নয়।

শিক্ষার্থীরা দ্রুত সব শ্রেণির পাঠ্যবই সরবরাহের দাবি জানিয়ে বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই সংকট নিরসন না হলে পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক বলেন,মন্ত্রণালয় থেকে এরিয়াভিত্তিক প্রকাশনা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেই প্রকাশনা ছাপাতে বিলম্ব করলে আমাদের বই পেতে দেরি হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পুরোনো বই দিয়ে পাঠদান চালাই। তবে এবার আমরা পুরোনো বই দিই নাই। বই পাওয়া সাপেক্ষে পুরোদমে পাঠদান শুরু হবে।

পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বলেন, ক্লাস সিক্স আর নাইনের সব বই বিতরণ করেছি। দুই-একদিনের মধ্যে বাকি বই গুলো পাবো বলে আশা করছি।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, 'ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণি ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণির বই এখনো আমরা পাইনি। গতকালকে রাতে বই এসেছে কিনা জানা নেই। বই পেলে আমরা সকল শিক্ষার্থীকে বইয়ের আওতায় আনতে পারবো বলে মনে করছি।'

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক বলবৎ থাকায় আনোয়ারা উপজেলার কোথাও বই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা দেখা যায়নি। স্ব স্ব শ্রেণি কক্ষে বইগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেছে শিক্ষকেরা।

ইসলামি দলগুলো নারী প্রার্থীদের কীভাবে গ্রহণ করেছে—জানালেন ড…
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ মনোনয়ন প্রত্যা…
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
নাহিদ ইসলামের হলফনামা নিয়ে বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা এনসিপির
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
উপদেষ্টা মাহফুজের ভাই মাহবুবের সম্পদ ১ কোটিরও বেশি
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
বাকৃবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
মেসির সামনে নতুন রেকর্ডের হাতছানি
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!