রবীন্দ্রনাথ-তারাশংকর-বিভূতিভূষণের স্মৃতিবিজড়িত গ্রন্থাগারটির এই হাল!

০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:২৬ PM
নাটোরের ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি

নাটোরের ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি © ফাইল ফটো

বইয়ের মাঝে লুকিয়ে থাকা আনন্দ কুড়াতে পাঠকরা আর ভিড় করেন না লাইব্রেরীতে। রাশি রাশি বইয়ের অক্ষরে অক্ষরে তাই চাপা কান্নার আর্তনাদ। পাঠক সংকটে এমনই প্রাণহীন অবস্থা দেশের অন্যতম প্রাচীন নাটোরের ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরীর।

নাটোরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায়-এর আমন্ত্রনে ১৮৯৮ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটোরে আগমন ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে ১৯০১ সালে সাহিত্যিক ও শিক্ষানুরাগী মহারাজা জগদিন্দ্র নাথ রায় প্রতিষ্ঠা করেন ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরী। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই লাইব্রেরী হয়ে ওঠে শিক্ষিত সচেতন গণমানুষের প্রিয় পাঠস্থান। রাজা, জমিদার ও শিক্ষিত অভিজাত শ্রেণীর আনুকুল্যে গড়ে ওঠে ধর্নাঢ্য সংগ্রহশালা। অক্ষয়কুমার মৈত্র ও রায় বাহাদুর জলধর সেন পালন করেন বই নির্বাচনের দায়িত্ব। স্যার যদুনাথ সরকার, প্রমথ বিশি’র মত বরেণ্য ব্যক্তিদের পদচারনায় মুখর হয়ে ওঠে লাইব্রেরী আঙ্গিনা। ত্রিশের দশকে প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ কাজী আবুল মসউদ ও লেখক গোবিন্দ সাহার মত ব্যক্তিদের গতিশীল নেতৃত্বে লাইব্রেরী হয় সমৃদ্ধ। নিয়মিত আয়োজন হতে থাকে পূর্ণিমা তিথিতে বিশেষ সাহিত্য সভার। বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য সভায় অতিথি হয়ে আসেন কথা সাহিত্যিক তারাশংকর বন্দোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় এবং যুগান্তর সম্পাদক বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়, আনন্দ বাজার সম্পাদক চপলা কান্ত ভট্রাচার্য প্রমূখ।

’৪৭-এর ভারত বিভক্তির শূণ্যতার পর ষাটের দশকে লাইব্রেরী পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়। ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ধ্বংস যজ্ঞের শিকার হয় এই লাইব্রেরী। আশির দশকে এসডিওএ, এইচ,এস,সাদেকুল হকের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং কথা সাহিত্যিক শফী উদ্দিন সরদারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে প্রাণ ফিরে আসে লাইব্রেরীর। আর ১৯৮৬ সালে নন্দিত জেলা প্রশাসক জালাল উদ্দিন আহামেদ এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যমান নতুন ভবনের নির্মান কাজের মধ্য দিয়ে লাইব্রেরীর নতুন যাত্রা শুরু হয়। পাঁচ শতাংশ জমির উপর দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমানে লাইব্রেরী ভবনের তৃতীয় তলা জুড়ে মিলনায়তন নির্মানের কাজ এখন শেষের পথে।

পাঠক সমাগমে ভরপুর নব্বই এর দশক ছিল লাইব্রেরীর সোনালী সময়। বিভিন্ন দিবস উদযাপন, সাহিত্য আসর আয়োজন, দেয়াল পত্রিকার প্রকাশনা ছিলো চোখে পড়ার মত। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এককভাবে আয়োজন করা হয় একুশের বই মেলার। এক্ষেত্রে দক্ষ সংগঠকের স্বাক্ষর রেখেছেন আলী আশরাফ নতুন ও মরহুম রশীদুজ্জামান সাদী।

কালের পরিক্রমায় বর্তমানে লাইব্রেরীতে এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকা, বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সহ ১২ হাজার বই রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে একুশের বই মেলা আয়োজন ছাড়া ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, বিজয় দিবস উদযাপন ছাড়া ও অনিয়মিত আয়োজনে রয়েছে সাহিত্য আসর।

প্রতি বছরের ডিসেম্বরে আলোচনা-সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে বার্ষিক সাধারণ সভাটি। গত বার্ষিক সাধারণ সভাতে পাঠকদের লাইব্রেরী মুখী করতে অংশগ্র হনকারীদের প্রস্তাবনায় উঠে আসে বেশ কিছু প্রস্তাবনা। এরমধ্যে ই-বুকচালু ও শিক্ষার্থীদের জন্যে বইপড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন উল্লেখযোগ্য। নির্বাহী কমিটিতে একই মুখের আগমন না ঘটিয়ে নতুন মুখ সংযোজন ও কমিটির মেয়াদ তিন বছর থেকে কমিয়ে দুই বছর করার প্রস্তাবও দেয়া হয়।

এসব প্রস্তাবনার ব্যাপারে লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক মো: আলতাফ হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সংগ্রহ করা গেলে ই-বুক এর পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এর আগে বই পড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন সহ নানা মুখী পদক্ষেপ গ্রহন করে ও পাঠক বৃদ্ধি পায়নি বলে জানান তিনি।

লাইব্রেরীর পাঠক রেজিষ্টারে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে সাতজন পাঠকের উপস্থিতি, তাও একই ব্যক্তিদের আগমন এবং তাঁরা মূলত সংবাদপত্রের পাঠক। প্রতিদিন ১টি ইংরেজীসহ মোট ১০টি দৈনিক নেয়া হয়। লাইব্রেরীয়ান অসীম অধিকারী প্রতিদিন গড়ে ৫-৭ জন সদস্য বই নেন বলে দাবী করেন।

নিয়মিত পাঠক কবি গনেশ পাল বলেন, পড়ার নেশা থেকেই আসা। পাঠক না আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন পাঠ্য বই এর চাপে অস্থির, রয়েছে কোচিং এর চাপ, ওদের আর সময় নেই। মুহাম্মদ রবিউল হক বই এর সংগ্রহ আরো বৃদ্ধির পরামর্শ দেন।
নাটোরের সজ্জন ব্যক্তি ও লাইব্রেরীর আজীবন সদস্য মুজিবুল হক নবী নিয়মিত লাইব্রেরীতে না আসা প্রসঙ্গে বলেন, ব্যস্ততা। ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর কারনে লাইব্রেরীতে পাঠক থাকছেনা বলে তাঁর অভিমত।

লাইব্রেরীর আজীবন সদস্য, গবেষক ও উপসচিব মো: মখলেছুর রহমান বলেন, ই-বুকচালু, সাম্প্রতিক প্রকাশনা সংযোজনের মাধ্যমে সংগ্রহ বৃদ্ধি সহ গবেষণা ধর্মী বই এর উপর গুরুত্ব প্রদান করে লাইব্রেরীকে যুগোপযোগী করতে পারলে অবশ্যই লাইব্রেরী জমজমাট হবে।

আমাদের শিক্ষিত সম্প্রদায় মোটের উপর বাধ্য না হলে বই স্পর্শ করেননা- প্রমথ চৌধুরীর একথা মিথ্যা প্রমান করে দিয়ে লাইব্রেরী হয়ে উঠুক পাঠকের পদচারনায় মুখরিত-বোদ্ধা পাঠকের এই প্রত্যাশা। লাইব্রেরী হয়ে উঠুক সমাজ গঠনের হাতিয়ার।

সূত্র : বাসস

শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
খুব কঠিন পথে আছি, আপনারা আমাকে হেল্প করুন: চিকিৎসকদের সহযোগ…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
সাতক্ষীরায় তেল সংকটে মোটরসাইকেল বাজারে ধস, বাড়ছে ব্যাটারিচা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
গাইড বই বাণিজ্যের অভিযোগ শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে, তদন্তে ‘ধী…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
মিরসরাই বসতঘর থেকে অজগর উদ্ধার
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
৯ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence