ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে ‘অস্থিরতা’, ন্যাশনাল এগ্রিকালচারিস্টস অ্যালায়েন্সের নিন্দা

১০ মে ২০২৬, ০৯:২৪ PM , আপডেট: ১০ মে ২০২৬, ০৯:২৫ PM
ধান গবেষণা কেন্দ্র

ধান গবেষণা কেন্দ্র © সংগৃহীত

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) অস্থিরতা বিরাজ করছে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েজে জাতীয় নাগরিক পার্টি সমর্থিত কৃষিবিদদের সংগঠন ন্যাশনাল এগ্রিকালচারিস্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (নাব)। আজ রবিবার (১০ মে) সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও ধান গবেষণায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে উন্নত জাত উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষণায় আন্তর্জাতিক মান অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের কৃষিখাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম, নেতৃত্ব সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মহাপরিচালক পদে দীর্ঘ সময় স্থায়ী নেতৃত্বের অভাব, দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিতর্ক এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রকাশ্য গ্রুপিং করে অসন্তোষ, যা গবেষণা কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এর ফলে গবেষণাগার কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ের গবেষণা, ল্যাবভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রমেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ব্রি-র মহাপরিচালক পদে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি গবেষক, কৃষিবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একটি বিশেষায়িত কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে কৃষি গবেষণা-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা হলেও, প্রতিষ্ঠার পর এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে অনেকে মনে করছেন। অতীতে ‘ব্রি’ এর মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সাধারণত গবেষণা ও কৃষিবিজ্ঞানভিত্তিক অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরই নেতৃত্ব প্রদান করা হয়েছে, যাতে গবেষণার ধারাবাহিকতা, পেশাগত পরিবেশ ও গবেষকদের আস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে।

এ অবস্থায় প্রশাসনিক ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাতন্ত্র্য এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে নাব। সংগঠনটি বলছে, একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত দক্ষতা, গবেষণায় অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ অপরিহার্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই, গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং যোগ্য, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে গতিশীল করা। এছাড়া, মহাপরিচালক পদকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অভিযোগ, অনিয়ম ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় তদন্ত বা কমিটি গঠন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। দেশের কৃষি গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ‘ব্রি’ এর স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের ও লেভেলের ফল প্রকাশ
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
বেরোবি উপাচার্যের আপ্যায়ন ব্যয় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা 
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জে ইংরেজির দুইপত্রে আবেদন ৩০ হাজার, গণ…
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
রিলেশনশিপ অফিসার নিয়োগ দেবে আইডিএলসি ফাইন্যান্স, আবেদন ১৫ স…
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের আবেদন যবিপ্রবির সহযোগী অধ…
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
বদলি বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ চান ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগপ্…
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬