রাবিতে ভর্তি: প্রাথমিক আবেদনেই ৫ বছরে আয় ৯ কোটি টাকা

১৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৫৪ AM , আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৫, ০৩:৪২ PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা © ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রাথমিক আবেদনের মাধ্যমে প্রতি বছরে আয় হয় প্রায় ২ কোটি টাকা। গত ৫ বছরে এ খাত থেকে ৮ কোটি ৮৬ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৫ টাকা আয় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এ বিশাল অঙ্কের আয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক সিলেকশনের জন্য টাকা নেওয়া হয় না। শুধু রাবিতে এ পদ্ধতি চালু আছে। এ ফি নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। শুধু টাকা আয়ের উদ্দেশ্য এ সিলেকশন করা হয়। প্রাথমিক সিলেকশন থাকার বিপক্ষে তারা।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টি, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ৪ লাখ ১৪ হাজার ১৪টি, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৩ লাখ ৯৮ হাজার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ৩ লাখ ৫ হাজার এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯০৩টি। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৫৫ টাকা দিয়ে প্রাথমিক আবেদন করতে হয়। 

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আহমিদুর রহমান তামিম বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে রাবিতে আবেদন ফি বেশি। তারপর আবার প্রাথমিক আবেদনে ৫৫ টাকা নেওয়ার কোনো মানেই হয় না। এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে তো এই নিয়ম নেই। এ পদ্ধতি তুলে দেওয়া উচিত।

তামিমের বাবা মো. মমিনুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু চূড়ান্ত সিলেকশন আছে, তাই প্রাথমিক সেলেকশন থাকার যৌক্তিকতা দেখছি না। এটা মূলত অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কৌশল।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টি, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ৪ লাখ ১৪ হাজার ১৪টি, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৩ লাখ ৯৮ হাজার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ৩ লাখ ৫ হাজার এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯০৩টি। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৫৫ টাকা দিয়ে প্রাথমিক আবেদন করতে হয়। 

এর ফলে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক আবেদন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় হয় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ২ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ৭৭০ টাকা, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৬৫ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট জিপিএধারী শিক্ষার্থীদের প্রথমে ৫৫ টাকা দিয়ে প্রাথমিক আবেদন করতে হয়। প্রাথমিক সিলেকশনের পর যারা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, কেবল তারাই ইউনিটভিত্তিক চূড়ান্ত আবেদন ফি জমা দেবেন। 

বিগত বছরগুলোয় প্রতি ইউনিটে ৭২ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারতেন। তবে এ বছর এক ইউনিটে পরীক্ষা দিতে পারবেন ৯২ হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু প্রাথমিক আবেদন পড়ে তার তিন-চার গুণ। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলেও লাখো শিক্ষার্থীকে দিতে হয় ৫৫ টাকা করে। 

এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ড. মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রাথমিক সিলেকশন পদ্ধতি আসলে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ আমাদের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে পরীক্ষা নেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই। একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার ক্যাপাসিটি আছে। ফলে সিলেকশন রাখার বিকল্প নেই। 

আরো পড়ুন: রেলওয়ের বাতিল হওয়া নিয়োগ পরীক্ষা মার্চের প্রথম সপ্তাহে

অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শুধু চূড়ান্ত সিলেকশন রাখা সম্ভব কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি কম আবেদন পড়ে, তাহলে এটা সম্ভব। কিন্তু আমাদের আবেদন তো পড়ে অনেক। সেখান থেকে বাছাই করে নেওয়া হয়। জিপিএ’র যে লিমিট দেওয়া থাকে, সে পর্যন্ত কখনো যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, প্রাথমিক সিলেকশন ছাড়া তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। আমাদের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে আসন সীমাবদ্ধ। প্রাথমিক আবেদন তুলে কতজন আবেদন করবে, এটা তো বোঝা সম্ভব নয়। এছাড়া বারবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়াও সম্ভব না। 

তিনি বলেন, এখন যে প্রক্রিয়ায় সিলেকশন করা হয়, সেটা আমার কাছে মনে হয়- বেস্ট ওয়ে। তবে যে ফি নেওয়া হয়, সে বিষয়ে কথা বলার জায়গা আছে। আমি এ বিষয়ে কথা বলব।

‘আওয়ামী আমলের শিক্ষকরাই ছাত্রদের খাতায় লিখে দিতেন, নকল সরবর…
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
৮০০ টাকা চুরির অপবাদে দুই শিশুকে মারধর, মুখে সিগারেটের সেঁকা
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাঁটা পড়ে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু 
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমাতে গিয়ে চিরঘুমে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
হোটেলে বিল না দিতে সাইরেনের অপেক্ষায় থাকেন ইসরায়েলিরা
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
আইসিটিভিটিআর: কর্মমুখী শিক্ষা বিস্তারে প্রেসিডেন্ট জিয়ার দূ…
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence